কসবার যুবক অর্ঘ্য দাসের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ভোটের ফল প্রকাশের দিন বিজেপি কর্মীদের দাড়া হামলার শিকার হওয়ার পর দীর্ঘ দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন অর্ঘ্য। অবশেষে মঙ্গলবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং বাম নেতৃত্ব।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই কসবার মামার বাড়িতেই বড় হয়েছেন অর্ঘ্য। এলাকায় শান্ত স্বভাবের ছেলে হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, রাজনীতির সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক ছিল না। খেলাধুলা নিয়েই বেশি সময় কাটাতেন। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের দিন আচমকাই হিংসার শিকার হতে হয় তাঁকে।
অভিযোগ, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এলাকায় বিজয় মিছিল বের করে বিজেপি সমর্থকদের একাংশ। সেই সময় কয়েক জন যুবকের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কোনও রকম উস্কানি বা ঝামেলা ছাড়াই ওই হামলার ঘটনা ঘটে। অর্ঘ্য দাস-সহ মোট চার জন গুরুতর জখম হন। তাঁদের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল বলে অভিযোগ।
আক্রান্তদের মধ্যে অর্ঘ্যর ভাই কৌশিক দাসও ছিলেন। তাঁরও পেটে চোট লাগে বলে জানা যায়। যদিও প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু অর্ঘ্যর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় দীর্ঘ দিন হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছিল। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার জন্য এলাকার কয়েক জনের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন মৃতের পরিবার। তাঁদের দাবি, হামলায় জড়িতদের নাম উল্লেখ করে কসবা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এর জেরে এলাকায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযুক্তদের ধরার বদলে পুলিশ উল্টে বিক্ষোভকারীদের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। প্রতিবাদে নামা মহিলাদের ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই বিষয়ে পুলিশের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার অর্ঘ্যর বাড়িতে যান সিপিআই(এম) নেতা শতরূপ ঘোষ ও দীপু দাস। সেখানে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তাঁরা। ছেলের মৃত্যুর শোকে ভেঙে পড়েন অর্ঘ্যর মা পম্পা দাস, মামা ও অন্যান্য আত্মীয়রা। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন বাম নেতারা।
শতরূপ ঘোষ অভিযোগ করেন, প্রথমে যেটিকে খুনের চেষ্টার মামলা হিসেবে দেখা হচ্ছিল, অর্ঘ্যর মৃত্যুর পর তা এখন খুনের মামলায় পরিণত হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং আহতদের সাক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত কার্যকর পদক্ষেপ করেনি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হামলার পর অভিযুক্তরা মোটরবাইক ফেলে পালিয়ে যায়। সেই বাইক এখনও এলাকায় পড়ে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর কসবা এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। মৃতের পরিবারের একটাই দাবি, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।


