দেশজুড়ে আবারও বাড়ল পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম। মঙ্গলবার থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় বার জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। রান্নার গ্যাস, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বৃদ্ধির চাপের মধ্যেই এবার পরিবহণ খরচ বাড়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
কলকাতায় মঙ্গলবার থেকে প্রতি লিটার পেট্রলের দাম বেড়ে হয়েছে ১০৯ টাকা ৭০ পয়সা। ডিজ়েলের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৬ টাকা ৮ পয়সা প্রতি লিটার। আগের দামের তুলনায় পেট্রলে প্রায় এক টাকা এবং ডিজ়েলে প্রায় ৯৫ পয়সা বৃদ্ধি হয়েছে। গত সপ্তাহেও জ্বালানির দামে বড়সড় বৃদ্ধি হয়েছিল। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই টানা দু’বার দাম বাড়ায় সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে পরিবহণ ব্যবসায়ীরা।
শুধু কলকাতাই নয়, দেশের অন্যান্য বড় শহরেও একই ছবি দেখা গিয়েছে। দিল্লিতে পেট্রল প্রায় ৮৮ পয়সা এবং ডিজ়েল ৯১ পয়সা বেড়েছে। মুম্বই ও চেন্নাইয়েও জ্বালানির নতুন দাম কার্যকর হয়েছে মঙ্গলবার থেকে। সব শহরেই পেট্রল ও ডিজ়েলের দাম নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামের অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে ভারতের বাজারেও। পশ্চিম এশিয়ায় চলা উত্তেজনার কারণে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারত যেহেতু অধিকাংশ জ্বালানি বিদেশ থেকে আমদানি করে, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামার সরাসরি প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়ছে।
এমন পরিস্থিতিতে কিছু দিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীর কাছে জ্বালানি ব্যবহারে সচেতন হওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। তিনি গণপরিবহণ বেশি ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। মেট্রো পরিষেবা থাকলে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে মেট্রো ব্যবহার করতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি একই গাড়িতে একাধিক ব্যক্তি যাতায়াত করার ‘কারপুল’ ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
করোনার সময় যেভাবে বহু সংস্থা বাড়ি থেকে কাজের ব্যবস্থা চালু করেছিল, সেই পদ্ধতি ফের কিছু ক্ষেত্রে চালু করারও পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, এতে জ্বালানির ব্যবহার কমবে এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সঞ্চয়ে সাহায্য হবে।
তবে বারবার জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। বিশেষ করে পরিবহণ খরচ বাড়লে বাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাস, ট্যাক্সি ও পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে আগামী দিনে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন অর্থনৈতিক মহলের একাংশ।


