জম্মু ও কাশ্মীর স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন সোমবার জানায়, দিল্লির লালকেল্লার কাছে ১০ নভেম্বরের বিস্ফোরণের পর উত্তর ভারতের বেশ কয়েকটি রাজ্যে কাশ্মীরি ছাত্রছাত্রীদের হুমকি এবং বাড়ি খালি করার চাপে পড়তে হচ্ছে। সংগঠনের ন্যাশনাল কনভেনর নাসির খুইহামী দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনার পর দেশজুড়ে কাশ্মীরিদের বিরুদ্ধে সন্দেহ ও অবিশ্বাস বেড়ে গিয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান ও দিল্লির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং আবাসিক এলাকায় এমন অভিযোগ উঠছে।
খুইহামী জানান, একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে সন্দেহ তৈরি করা হচ্ছে। কিছু বাড়িওয়ালা কাশ্মীরি ভাড়াটিয়াদের তাড়াতাড়ি বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আতঙ্কে অনেকে ইতিমধ্যেই নিজের বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সংগঠনের মতে, এই ভাবে সন্দেহের চোখে দেখা হলে ছাত্রদের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হবে। বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণাত্মক জিজ্ঞাসাবাদ ও পরিচয় যাচাইয়ের কারণে ছাত্ররা অস্থির হয়ে পড়েছেন। সামাজিক মাধ্যমেও কাশ্মীরিদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর মন্তব্য বেড়েছে, যা আরও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে।
খুইহামী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কাশ্মীরিদের কলঙ্কিত করার প্রবণতা বন্ধ করা জরুরি। তিনি বলেন, কাশ্মীরি ছাত্ররা দেশের গণতন্ত্র ও মূলধারার প্রতি আস্থা রাখে, কিন্তু বিভিন্ন রাজ্যে তাদের সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। বিস্ফোরণ নিয়ে তদন্তে তাদের কোনও আপত্তি নেই, তবে সমষ্টিগত সন্দেহ সৃষ্টি করা ঠিক নয়। লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে বিস্ফোরণে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার হয়েছে, এবং ফারিদাবাদ পুলিশ ইতিমধ্যেই জম্মু-কাশ্মীরের ৫০০-র বেশি ব্যক্তির পরিচয় যাচাই করেছে।


