সাধারণত সংক্ষিপ্ত বা মিনি নিলামকে বড় দলগঠনের জায়গা হিসেবে দেখা হয় না। এই নিলাম মূলত দলে থাকা ঘাটতি মেটানো এবং প্রয়োজনীয় বদল আনার সুযোগ দেয়। কিন্তু এবার কলকাতা নাইট রাইডার্সের কাছে এই নিলাম ছিল ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। গত মেগা নিলামের পর দল সেভাবে দাঁড়াতে পারেনি। তার উপর আগের মরশুমে আশানুরূপ ফল না হওয়ায় কয়েকজন ক্রিকেটারকে ছেড়েও দিতে হয়। ফলে এবারের মিনি নিলামে শক্ত দল গড়াই ছিল মূল লক্ষ্য।
নাইট শিবির শুরু থেকেই তিনটি বিষয়ের উপর জোর দেয়। প্রথমত, আন্দ্রে রাসেলের বিকল্প হিসেবে একজন মানসম্পন্ন অলরাউন্ডার নেওয়া। দ্বিতীয়ত, টি-টোয়েন্টির জন্য ভয়ংকর গতির বোলার খোঁজা। তৃতীয়ত, একজন নির্ভরযোগ্য উইকেটরক্ষক ব্যাটার দলে আনা। পাশাপাশি বেঞ্চ শক্ত করাও ছিল পরিকল্পনার অংশ। অলরাউন্ডার বিভাগে কেকেআর পুরোপুরি সফল। অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন গ্রিনকে দলে নিয়েছে তারা। ব্যাট ও বল,দুই দিকেই কার্যকর গ্রিনকে পেতে নিলামে বড় লড়াই হয়। শেষ পর্যন্ত মোটা অঙ্ক খরচ করে তাকে দলে টানে নাইটরা। তরুণ বয়স ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কারণে তাকে ঘিরে আশাবাদী টিম ম্যানেজমেন্ট।
পেস বোলিংয়ে মূল টার্গেট ছিলেন শ্রীলঙ্কার মাথিশা পাথিরানা। ডেথ ওভারে কার্যকর এই বোলারকে দলে নিতে কেকেআর বড় বিনিয়োগ করেছে। পাশাপাশি অভিজ্ঞতা বাড়াতে মুস্তাফিজুর রহমানকেও নেওয়া হয়েছে। তরুণ ভারতীয় পেসারদের সঙ্গে এই অভিজ্ঞ বিদেশি বোলাররা দলের ভারসাম্য বাড়াবে বলেই মনে করছে কেকেআর।
তবে উইকেটরক্ষক বিভাগে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেনি নাইট শিবির। পছন্দের কিপার হাতছাড়া হওয়ায় তারা ভরসা রেখেছে তরুণ তেজস্বী সিংয়ের উপর। সঙ্গে ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্টকে নেওয়া হয়েছে। এই জায়গাটাই এখনও কিছুটা অনিশ্চিত। সব মিলিয়ে, কয়েকটি ছোট ঘাটতি থাকলেও মিনি নিলামে কেকেআর তাদের বেশিরভাগ পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করতে পেরেছে। নতুন মরশুমে শক্তিশালী দল নিয়ে নামার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী কলকাতা শিবির বলে মনে করছেন অনেকেই।


