অসমের শোণিতপুর জেলায় গরু চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ গণপিটুনির ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার রাতে অসম-অরুণাচল সীমান্তের ভলুকপং এলাকার জঙ্গলের কাছে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে খবর, দুজন মুসলিম যুবক একটি ছোট ট্রাকে করে গরু নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামবাসীদের হাতে ধরা পড়ে। এরপর তাঁদের উপর হামলা চালানো হয়। ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে, আর এক ব্যক্তি গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃত ও আহত তিনজনই অসমের মরিগাঁও জেলার বাসিন্দা। তাঁরা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বলে জানা গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁদের সম্পূর্ণ পরিচয় যাচাই করার কাজ চলছে। আহত ব্যক্তির বয়ানের ভিত্তিতেই ঘটনার তদন্ত এগোচ্ছে।
শোণিতপুর জেলার পুলিশ সুপার বরুণ পুরকায়স্থ জানান, স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন যে ওই তিনজন কয়েকটি গরু চুরি করে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় তাঁদের গাড়ি আটকানো হয়। এরপর উত্তেজিত জনতা তাঁদের মারধর শুরু করে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গরু ও ব্যবহৃত ছোট ট্রাকটি উদ্ধার করেছে। ইতিমধ্যেই খুনের মামলা রুজু হয়েছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলটি গভীর জঙ্গল ও দুর্গম এলাকায় হওয়ায় তদন্তে সমস্যা হচ্ছে। সেখানে কোনও সিসিটিভি ক্যামেরাও ছিল না। ফলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং আহত ব্যক্তির জবানবন্দির উপরই ভরসা করতে হচ্ছে তদন্তকারীদের।
অসমে সাম্প্রতিক সময়ে গরু পাচার ও চুরির ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। রাজ্য সরকার এ বিষয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা আগেই জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত ৮৫০-রও বেশি সন্দেহভাজন গরু পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রচুর পরিমাণ গরুর মাংসও বাজেয়াপ্ত করেছে প্রশাসন। বিশেষ করে বকরিদের আগে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর ফের একবার গণপিটুনির মতো ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। পুলিশ সাধারণ মানুষকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছে এবং তদন্তে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেছে।


