কলকাতায় নৃশংস ভাবে ৩০ বছর বয়সি এক মুসলিম মহিলাকে আগুনে পুড়িয়ে খুন করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে ধরা পড়েছেন সিদ্ধার্থ চারিওয়াল নামে এক ব্যক্তি। পুলিশের দাবি, বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় এই হামলা চালানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই মহিলাকে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ময়দান এলাকায় ডেকে পাঠায়। নির্ধারিত সময়ে সেখানে পৌঁছনোর পর দু’জনের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। অভিযোগ, এরপরই অভিযুক্ত কেরোসিন ঢেলে মহিলার গায়ে আগুন লাগিয়ে দেয়।
ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পুলিশও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মহিলাকে এসএসকেএম হাসপাতাল-এ ভর্তি করে। চিকিৎসকেরা জানান, তাঁর শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। টানা দু’দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগে হাসপাতালে শুয়ে তিনি পুলিশকে একটি বয়ান দেন। সেই বয়ানেই তিনি সিদ্ধার্থ চারিওয়ালের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেন, তিনিই এই হামলা চালিয়েছেন। এরপরই পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
পরিবারের দাবি, এই ঘটনা হঠাৎ নয়। মৃতার মা জানান, অভিযুক্ত আগে থেকেই তাঁর মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল এবং পাশাপাশি চাকরির কথাও বলেছিল। কিন্তু তাঁর মেয়ে স্পষ্টভাবে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এবং অভিযুক্তের সঙ্গে আর কোনও সম্পর্ক রাখতে চাননি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তকে বেলেঘাটা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রথমে এই ঘটনায় খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তবে মহিলার মৃত্যুর পর তা খুনের মামলায় রূপান্তরিত করা হচ্ছে।
সরকারি কৌঁসুলি অরূপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ধারাগুলি পরিবর্তন করা হবে। অভিযুক্তকে ব্যাঙ্কশাল কোর্ট-এ তোলা হলে আদালত তার জামিনের আবেদন খারিজ করে দেয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো ঘটনার পেছনে আরও কোনও কারণ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করছেন।


