পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া বা এসআইআর-এর পর প্রকাশিত পরিপূরক তালিকায় নাম বাদ পড়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। বিশেষ করে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ পড়ার হার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই সমীক্ষাটি করেছে সাবার ইনস্টিটিউট। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, নন্দীগ্রামে মোট ২,৮২৬ জন ভোটারের নাম নতুন তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২,৭০০ জনই মুসলিম, যা মোট বাদ পড়া নামের প্রায় ৯৫ শতাংশেরও বেশি। অথচ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তথ্য বলছে, এই কেন্দ্রে মুসলিম ভোটারের হার ছিল প্রায় ২৬ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান থেকেই প্রশ্ন উঠছে, কেন এই নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মানুষ এত বেশি সংখ্যায় তালিকা থেকে বাদ গেলেন।
উল্লেখ্য, ভারতের নির্বাচন কমিশন চলতি বছরের ২৩ মার্চ এসআইআর-এর পর প্রথম পরিপূরক তালিকা প্রকাশ করে। তারপর থেকে মোট ১০টি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে নতুন ভোটার যুক্ত হওয়া এবং নাম বাদ যাওয়ার তথ্য সামনে এসেছে। এই পুরো প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর থেকে, যা পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে চালানো হয়।
এর আগে ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকায় ‘মৃত’, ‘ডুপ্লিকেট’, ‘স্থানান্তরিত’ বা ‘অনুপস্থিত’—এই সব কারণ দেখিয়ে ৫৮ লক্ষেরও বেশি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকায় নন্দীগ্রামের প্রায় ১০,৫০০ ভোটারকে ‘যাচাইয়ের অপেক্ষায়’ রাখা হয়।
নন্দীগ্রাম বরাবরই রাজনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০২১ সালের নির্বাচনে এখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখোমুখি হয়েছিলেন। খুব অল্প ব্যবধানে জয়ী হন অধিকারী, এবং সেই ফলাফল এখনও কলকাতা হাই কোর্ট-এ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
সমীক্ষা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গবেষক সাবির আহমেদ বলেছেন, এই তথ্য একটি বড় অন্যায়ের ইঙ্গিত দেয় এবং বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের সচেতন হওয়া দরকার। অন্যদিকে সাংবাদিক বসুন্ধরা সিরনাতে মনে করছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। তাঁর মতে, তথ্য আড়াল করা হলে তা গণতন্ত্রের পক্ষে উদ্বেগজনক হতে পারে।


