পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ভোটের আগে আবারও দলবদলের হাওয়া জোরালো হচ্ছে। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে নোয়াপাড়ার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুনীল সিং এবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দিলেন। তিনি আগে থেকেই দলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছিলেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ছিল। গত বছরের অক্টোবর মাসে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র সঙ্গে তাঁর বৈঠকের পর থেকেই দলবদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছিল।
সুনীল সিংয়ের সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন হালিশহর পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান রাজু সাহানিও। বিজেপিতে যোগ দিয়ে তিনি সরাসরি তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর দাবি, আগের দলে থেকে তিনি মানুষের জন্য কাজ করতে পারছিলেন না। সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগও নাকি তাঁকে দেওয়া হচ্ছিল না।
অন্যদিকে, উল্টো ছবিও দেখা যাচ্ছে রাজ্য রাজনীতিতে। বসিরহাটের পরিচিত মুখ বাবু মাস্টার, যার আসল নাম ফিরোজ কামাল গাজি, আবার তৃণমূলে ফিরে এসেছেন। একুশের বিধানসভা ভোটের আগে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তবে গত কিছুদিন ধরে বিজেপির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক প্রায় ছিল না বলেই তিনি জানিয়েছেন। অবশেষে ভোটের মুখে তিনি আবার পুরনো দলে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেন।
বসিরহাটে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে জেলা সভাপতি বুরহানুল মুকাদ্দিনের উপস্থিতিতে তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। তৃণমূলে ফিরে তিনি জানান, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শুধু তাই নয়, নন্দীগ্রাম এলাকাতেও সাম্প্রতিক সময়ে দলবদল নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। এই কেন্দ্রটি আগেও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেখানে একাধিক নেতা-নেত্রীর দল পরিবর্তন নতুন করে জল্পনা বাড়িয়েছে। সম্প্রতি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন একাধিক স্থানীয় নেতা। এমনকি তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করের স্ত্রী শিউলি করও বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে এসেছেন। তিনি আগে পঞ্চায়েত প্রধান ছিলেন।
ভোটের আগে এই দলবদলের ধারায় রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এক দল থেকে অন্য দলে যোগ দেওয়ার এই প্রবণতা আগামী নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন থেকেই আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।


