মালদার বিভিন্ন এলাকায় ভোটার তালিকা নিয়ে অসন্তোষ ঘিরে বুধবার সকাল থেকেই চাঞ্চল্য তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পরেও তাঁদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এই অভিযোগ ঘিরেই ধীরে ধীরে ক্ষোভ জমতে থাকে এলাকায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং প্রশাসনিক কাজে থাকা বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়।
অভিযোগ ওঠে, কালিয়াচক ২ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসের ভিতরে সাতজন বিচারককে কয়েক ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। তাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা আধিকারিকও ছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রাতের দিকে বড় পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয় এবং অবরুদ্ধ আধিকারিকদের বের করে আনে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা জেলায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতা এবং আসন্ন ২৬ এর বিধানসভায় বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ একটি মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ান। তিনি দাবি করেন, এই ঘটনার পেছনে বিরোধী দল বিজেপির প্ররোচনা রয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে অশান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। তাঁর মতে, যারা বিক্ষোভ করছে তারা বিজেপির মদদপুষ্ট একটি দল এবং ইচ্ছাকৃত ভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে পরিস্থিতি অন্যদিকে ঘোরানোর চেষ্টা করছে।
তবে কুণাল ঘোষের এই বক্তব্যকে ঘিরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, সাধারণ মানুষের প্রকৃত সমস্যাকে আড়াল করতেই এই ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, ভোটার তালিকায় নাম না থাকা একটি গুরুতর বিষয়, এবং সেই সমস্যার সমাধান না করে দায় অন্যের উপর চাপানো ঠিক নয়। অনেকেই বলছেন, মানুষের ক্ষোভকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার বদলে প্রশাসনের উচিত দ্রুত সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এ ধরনের ঘটনায় রাজনৈতিক দায় এড়িয়ে যাওয়া সহজ হলেও, মূল সমস্যার সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অশান্তি তৈরি হতে পারে। প্রশাসনের ভূমিকা এবং নির্বাচন সংক্রান্ত কাজের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।


