বিজেপি শাসিত রাজ্য গুজরাতের ভাবনগর জেলায় এক প্রাথমিক স্কুলে হনুমান জয়ন্তীর দিনে ঘটে গেল উদ্বেগজনক ঘটনা। হনুমান জয়ন্তীর উপলক্ষে খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে শতাধিক ছোট পড়ুয়া। এই ঘটনা রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
ঘটনাটি ঘটে ভাবনগর-এর লংড়ি গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেদিন স্কুলে হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছিল। ছাত্রছাত্রীদের জন্য সকালের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়, যেখানে পাভভাজি ও পোলাও দেওয়া হয়েছিল। এই খাবারের দায়িত্ব নেয় স্থানীয় একটি সংগঠন। কিন্তু খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই একের পর এক শিশু পেটব্যথা, বমি এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখাতে শুরু করে।
চোখের সামনে এতগুলো শিশুকে অসুস্থ হয়ে পড়তে দেখে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গোটা স্কুলে। অভিভাবকেরা তড়িঘড়ি স্কুলে ছুটে আসেন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে, দ্রুত প্রায় ২৫ জন পড়ুয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। বাকিদের গ্রামেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়, আর কিছুজনকে নিকটবর্তী বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, স্কুলে শিশুদের খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে কোনও কড়া নজরদারি নেই। কীভাবে এমন নিম্নমানের বা দূষিত খাবার শিশুদের পরিবেশন করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সমালোচকদের মতে, শুধু উৎসবের আয়োজন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। ছাত্রছাত্রীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি সর্বাগ্রে থাকা উচিত। কিন্তু এই ঘটনায় স্পষ্ট, সেই দিকেই সবচেয়ে বেশি অবহেলা করা হয়েছে। সরকারি স্কুলে পড়ুয়াদের জন্য যে খাবার দেওয়া হয়, তার গুণগত মান পরীক্ষা করার কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেই বলেই অভিযোগ।
যদিও প্রশাসন জানিয়েছে, অসুস্থ পড়ুয়াদের চিকিৎসা চলছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে। স্বাস্থ্য দফতর খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠাবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—এমন ঘটনা বারবার ঘটার পরও কেন আগাম সতর্কতা নেওয়া হয় না?
এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি বড় ধরনের সতর্কবার্তা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ুয়াদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যে কতটা জরুরি, তা আবারও সামনে এল। বিজেপি সরকারের অধীনে গুজরাতের শিক্ষা ব্যবস্থার এই অব্যবস্থা নিয়ে এখন স্বাভাবিকভাবেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।


