আসামের রাজনীতিতে চা বাগানের শ্রমিকরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের ভোটকে কেন্দ্র করে প্রতিটি দলই বিশেষ নজর দেয়। আগের কয়েকটি নির্বাচন, বিধানসভা ও লোকসভা, সব ক্ষেত্রেই নরেন্দ্র মোদি চা শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, দৈনিক মজুরি ৩৫১ টাকা করা হবে। কিন্তু শ্রমিকদের অভিযোগ, সেই প্রতিশ্রুতি এখনও পূরণ হয়নি।
এদিকে অনেক চা বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। যারা এখনও কাজ করছেন, তারাও নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না বলে জানা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। নির্বাচনের আগে এই অসন্তোষ যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে, তা এখন থেকেই পূর্বাভাস পারছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রশ্ন উঠছে, উত্তর বঙ্গে বিজেপি কি হারাতে চলেছে নিজের শক্তি?
এই পরিস্থিতিতে এবারের প্রচারে অন্যভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন মোদী। বুধবার তিনি আসামে গিয়ে একটি চা বাগানে সময় কাটান। সেখানে তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে মিশে যান, চা পাতা তোলেন, ছবি তোলেন এবং ঝুমুর নাচে অংশ নেন। এই ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে বেশ প্রচার পায়। তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের জন্য বাগানটি আগে থেকেই প্রস্তুত করা হয়েছিল। কয়েকদিন কাজ বন্ধ রেখে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। কিছু মহিলা শ্রমিককে বিশেষভাবে বেছে নিয়ে নাচের জন্য প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল। তারা নির্দিষ্ট পোশাক পরে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
মোদী শ্রমিকদের পরিবারের খোঁজখবর নিলেও তাদের মজুরি নিয়ে সরাসরি কোনো প্রশ্ন করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে তিনি নিজের পুরনো চা বিক্রেতার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন। এরপর তিনি আরও দুটি সভায় যোগ দেন এবং বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন। বন্যা সমস্যার সমাধান ও রাজ্যে উন্নয়নের কথা বলেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, আবারও ক্ষমতায় এলে তার দল জিতবে এবং নতুন কিছু নীতি কার্যকর করা হবে। সব মিলিয়ে, চা শ্রমিকদের মন জেতার জন্য রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হচ্ছে।


