মহারাষ্ট্রে পারেল এলাকায় মিলাদ-উন-নবী উপলক্ষে বের হওয়া মিছিলকে কেন্দ্র করে বুধবার রাতে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ২৬ আগস্ট রাতে লক্ষ্মী কটেজের কাছে এই ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে ভইওয়াড়া থানার পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯ বছরের রেহান মাসুদ সৈয়দ, ১৯ বছরের আদিল খান আহমেদ খান এবং ১৮ বছরের মিরাজ মহম্মদ ফিরোজ রইস গ্রেফতার করতে পুলিশ তল্লাশি শুরু করেছে। পাশাপাশি সংঘর্ষে আর কারা জড়িত ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মিছিল যাওয়ার সময় দুই গোষ্ঠীর মধ্যে স্লোগান দেওয়া নিয়ে প্রথমে বচসা শুরু হয়। পরে সেই বচসাই হাতাহাতি এবং পাথর ছোড়াছুড়ির ঘটনায় গড়ায়। তবে ঠিক কী কারণে পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার পুরো ক্রম খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষই একে অপরকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিচার্জ করে জনতাকে সরিয়ে দেয়। সংঘর্ষের জেরে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়।
ঘটনাকে ঘিরে দুই পক্ষের বক্তব্যও সামনে এসেছে। স্থানীয় কিছু হিন্দু বাসিন্দার অভিযোগ, মিছিলের সময় আপত্তিকর স্লোগান দেওয়া হয়েছিল এবং হিন্দু-অধ্যুষিত এলাকায় পাথর ছোড়া হয়। অন্যদিকে, মিছিলে থাকা মুসলিমদের দাবি, তাঁদের ধর্মীয় পতাকার প্রতি অসম্মান দেখানো হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই উত্তেজনা তৈরি হয় বলে তাঁদের বক্তব্য।
এরই মধ্যে সংঘর্ষের পরের বেশ কিছু ভিডিয়ো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কয়েকটি ভিডিয়োতে কয়েক জন মুসলিম যুবককে কান ধরে ওঠবস করানো এবং ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করার দৃশ্য দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। অন্য একটি ভিডিয়োতে এক ব্যক্তিকে তাড়া করার সময় মুসলিমদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য শোনা যাচ্ছে। তবে এই ভিডিয়োগুলির সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং সত্যতা পুলিশ এখনও যাচাই করছে।


