মালদায় নবজাতকের মৃত্যুর সংখ্যা ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অগস্ট মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে মোট ৬০টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। এর মধ্যে একটি দিনেই প্রাণ হারিয়েছে ১০ জন নবজাতক। পরপর এত শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
মালদা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, মৃত শিশুদের অধিকাংশকেই গুরুতর অবস্থায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও নার্সিংহোম থেকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল। হাসপাতালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৬০ জনের মধ্যে ৪৪ জনের জন্ম হয়েছিল অন্যত্র। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের মালদা মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁদের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, মালদা মেডিক্যাল কলেজে জন্ম নেওয়া ১৬টি শিশুও পরে মারা গিয়েছে।
বিশেষ করে যে দিন ১০টি শিশুর মৃত্যু হয়, সেই ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ১০ জনের মধ্যে মাত্র দু’জনের জন্ম হয়েছিল মালদা মেডিক্যাল কলেজে। বাকি আটজনকে জেলার অন্য হাসপাতাল এবং নার্সিংহোম থেকে সংকটজনক অবস্থায় সেখানে আনা হয়েছিল।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মৃত শিশুদের মধ্যে কয়েকজনের শ্বাস নিতে সমস্যা ছিল। কারও জন্ডিস এবং কারও হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা ছিল। তবে এত অল্প সময়ে এত শিশুর মৃত্যু শুধুমাত্র এই কারণেই হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ভবন ইতিমধ্যেই মালদহ মেডিক্যাল কলেজের কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়েছে। হাসপাতালের তরফে প্রাথমিক রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পর জেলার বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির পরিষেবা নিয়েও নজরদারি শুরু করেছে প্রশাসন। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নেতৃত্বে ইতিমধ্যে ১৬টি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমে অভিযান চালানো হয়েছে। প্রসবের পর শিশুদের শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার ধরন এবং কেন গুরুতর অবস্থায় সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল, সেই বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মালদা মেডিক্যাল কলেজ, জেলা স্বাস্থ্য দফতর, প্রশাসন এবং পুলিশের আধিকারিকদের মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেলাশাসকের দফতরে বিষয়টি নিয়ে আরও একটি বৈঠক হওয়ার কথা। রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ও জানিয়েছেন, মালদার পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। কেন এত শিশুর মৃত্যু হল, তার কারণ বিস্তারিত ভাবে জানার চেষ্টা চলছে। তদন্তের রিপোর্ট সামনে আসার পরই পরিস্থিতির প্রকৃত ছবি আরও পরিষ্কার হবে।


