এসেল গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা তথা প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সুভাষ চন্দ্রের ব্যক্তিগত ঋণ মামলায় বড় অঙ্কের অর্থ উদ্ধারের সম্ভাবনা ধাক্কা খেল এলআইসি হাউজিং ফাইনান্স লিমিটেডের (LICHFL)। সংস্থার দাবি ছিল ১,৩২২.৩৯ কোটি টাকা। কিন্তু ন্যাশনাল কোম্পানি ল অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনালের (NCLT) অনুমোদিত পরিশোধ পরিকল্পনা অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত সংস্থাটি পেতে চলেছে মাত্র ৩৮.০৯ লক্ষ টাকা।
সুভাষ চন্দ্রের ব্যক্তিগত গ্যারান্টির অধীনে থাকা দুটি ঋণ অ্যাকাউন্টে আর্থিক সুবিধা দিয়েছিল LICHFL। সেই ঋণের নিরাপত্তা হিসেবে বেশ কিছু সম্পত্তি বন্ধক রাখা হয়েছিল। সংস্থাটি জানিয়েছে, NCLT-এর সাম্প্রতিক নির্দেশের পরেও ওই সম্পত্তির উপর তাদের অধিকার বহাল রয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজন হলে সেই সম্পত্তির মাধ্যমে টাকা উদ্ধারের পথও খোলা রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থা।
বিষয়টি সামনে আসার পর ঋণদাতাদের মধ্যে অসন্তোষও তৈরি হয়েছে। HDFC ব্যাংক ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা NCLT-এর এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। ব্যাংকের বক্তব্য, তারা এই নিষ্পত্তির প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিল এবং ভোটাভুটিতেও প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছিল। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থনে প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়েছে।
NCLT সুভাষ চন্দ্রের দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী মোট ৬.২৫ কোটি টাকা পরিশোধের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। তাঁর ব্যক্তিগত গ্যারান্টির সঙ্গে যুক্ত মোট দাবির অঙ্ক প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সুভাষ চন্দ্রের দফতরের দাবি, ব্যক্তিগত দেউলিয়া প্রক্রিয়ায় আপত্তিকারী ঋণদাতাদের স্বীকৃত মোট দাবি ৩,৯৯২ কোটি টাকা, ২২ হাজার কোটি নয়।
এই মামলা মূলত সুভাষ চন্দ্রের ব্যক্তিগত গ্যারান্টি নিয়ে। এসেল গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থা ঋণ নেওয়ার সময় তিনি ব্যক্তিগত গ্যারান্টর ছিলেন। সেই ঋণ পরিশোধে সমস্যা তৈরি হলে আইন মেনে ঋণদাতারা গ্যারান্টরের কাছ থেকেও টাকা উদ্ধারের চেষ্টা করতে পারেন।
সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত দেউলিয়া প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালে। ইন্ডিয়াবুলস হাউজিং ফাইনান্সের আবেদনের পর এই প্রক্রিয়া শুরু হয়। NCLT-এর অনুমোদিত পরিকল্পনার ফলে মামলাটি সরাসরি দেউলিয়া ঘোষণার দিকে এগোয়নি।
তবে LICHFL স্পষ্ট করেছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে মূল ঋণগ্রহীতা সংস্থাগুলির দায় মুছে যাচ্ছে না। তাদের কর্পোরেট দায়, নিরাপত্তা হিসেবে রাখা সম্পত্তির উপর অধিকার এবং আইন অনুযায়ী টাকা উদ্ধারের অন্যান্য পথ আগের মতোই রয়েছে। ফলে ১,৩২২.৩৯ কোটি টাকার দাবির বিপরীতে মাত্র ৩৮.০৯ লক্ষ টাকা পাওয়ার বিষয়টি আপাতত ব্যক্তিগত গ্যারান্টি সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।


