মালদা, ৩রা জুলাই: বর্ষার আমেজ এসেছে সবে, আর তার সঙ্গে এসেছে নদী ভাঙনের ভয়। মালদায় এবার গঙ্গা নয়, ফুলহর নদীই হয়ে উঠেছে উদ্বেগের কারণ। কয়েকদিন ধরে মানিকচক ব্লকের মথুরাপুরে এই নদী পাড় ভাঙছে, আর মঙ্গলবার রাত থেকে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে গেছে। নদীবাঁধের কাছাকাছি এই ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মনে এখন শুধুই আশঙ্কা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ভাঙন ঠেকাতে কিছু অস্থায়ী কাজ শুরু হয়েছে এবং ফুলহরের জন্যও একই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে এলাকার বাসিন্দারা মনে করছেন, এতটুকুতে কি সত্যিই বিপদ ঠেকানো সম্ভব?
বর্ষা শুরু হতেই মালদার নদীগুলোর জল বাড়তে শুরু করেছে। বুধবার সকালে মানিকচক ঘাটে গঙ্গার জলস্তর উঠেছে ২২.২০ মিটারে, আর তেলজন্না ঘাটে ফুলহরের জল পৌঁছেছে ২৩.৫৭ মিটার উচ্চতায়। জল বাড়ার সঙ্গে স্রোতের জোরও বেড়েছে। এর প্রভাবে মথুরাপুরের শংকরটোলা ঘাটে ফুলহর পাড় ভাঙতে শুরু করেছে। নদীবাঁধ থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে প্রায় ৬০০ মিটার জুড়ে এই ভাঙন চলছে। পাঠানপাড়ার বাসিন্দারা এখন ভয়ে আছেন, কারণ বাঁধ ভেঙে গেলে মথুরাপুরে বড় বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বললেন, “এখানকার অবস্থা খুব খারাপ। গত বছরও ভাঙন হয়েছিল, বন্যার জল ঢুকেছিল। আমরা ব্লক অফিসে গিয়ে বলেছিলাম, কিন্তু কিছুই হয়নি। এখন ভাঙন বেড়ে গেছে, নদী বাঁধের দিকে এগিয়ে আসছে।” তিনি আরও বলেন, “এভাবে চললে বাঁধ ভাঙতে বেশি দেরি হবে না। তখন শুধু আমাদের মথুরাপুরই নয়, পাশের গ্রামগুলোও ডুবে যাবে।” তাঁর গলায় আতঙ্ক আর হতাশা দুটোই স্পষ্ট।
জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, “রাজ্য সরকার ভাঙন রোধে সবরকম চেষ্টা করছে। রতুয়া, ভূতনি আর মানিকচকের ভাঙনপ্রবণ জায়গাগুলোতে অস্থায়ী কাজ শুরু হয়ে গেছে। স্থায়ী সমাধানের জন্যও পরিকল্পনা চলছে।” কিন্তু স্থানীয়দের মনে এই কথায় ভরসা আসছে না। ওখানকার একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা বারবার প্রশাসনের কাছে গেছি, কিন্তু কাজের নাম নেই। এখনই পদক্ষেপ না নিলে বন্যা আটকানো যাবে না।”
এই ভাঙন শুধু মথুরাপুরের জন্য নয়, আশপাশের এলাকার জন্যও বড় চিন্তার কারণ। নদীবাঁধ ভেঙে গেলে মানিকচক, নাজিরপুর, নুরপুরের মতো গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাগুলোও জলের তলায় চলে যেতে পারে। স্থানীয়রা বলছেন, গত দুই বছর ধরে তারা প্রশাসনকে জানিয়ে আসছেন, কিন্তু কাজ এগোয়নি। এখন পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। প্রশাসনের আশ্বাস আর বাস্তবের মধ্যে যে ফারাক, তা নিয়ে এলাকার মানুষের মনে শুধু প্রশ্ন আর ক্ষোভ।


