মালদা জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষকে হেনস্থার অভিযোগ তুলে জেলাশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিল একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ‘ইউনাইটেড ফোরাম ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস’-এর নেতৃত্বে বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই ডেপুটেশন দেন।সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারতের নির্বাচন কমিশন রাজ্যজুড়ে SIR কর্মসূচি চালালেও খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর বহু নাগরিককে অযথা সমস্যায় ফেলা হচ্ছে। অভিযোগ, ২০০২ সালের তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও বা বাবা-মা কিংবা পূর্বপুরুষের সঙ্গে পরিচয় প্রমাণ করার পরও সামান্য বানান ভুল কিংবা যুক্তিহীন কারণ দেখিয়ে মানুষকে বারবার শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। কখনও বয়সের ফারাক, কখনও একই অভিভাবকের সঙ্গে একাধিক সন্তানের নাম থাকার মতো অপ্রাসঙ্গিক বিষয় সামনে আনা হচ্ছে।
ফোরামের সদস্যদের দাবি, দেশের সংবিধানে কোথাও এমন নিয়ম নেই যে নামের বানান ভুল থাকলে বা পরিবারে সন্তান বেশি হলে ভোটাধিকার খারিজ হবে। অথচ যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তাঁদের কোনও লিখিত তালিকাও দেওয়া হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সীমিত সংখ্যক নথি সংগ্রহ করাও গরিব ও শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে অনেকের মধ্যেই ভয় তৈরি হয়েছে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম থাকবে তো? শুধু তাই নয়, শুনানির পরে আবেদনকারীদের কোনও রসিদ বা প্রমাণপত্র দেওয়া হচ্ছে না। ভবিষ্যতে সমস্যায় পড়লে অভিযোগ জানানোর সুযোগও থাকছে না। কোথাও কোথাও অচেনা লোকের মাধ্যমে ফর্ম জমা দিয়ে যাচাই ছাড়াই নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টার ঘটনাও সামনে আসছে।
এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংগঠন ও বিশিষ্টজনেরা একত্রিত হয়ে প্রশাসনের কাছে বৈধ ভোটারদের অধিকার রক্ষার দাবি জানান। জেলাশাসকের প্রতিনিধি সিনিয়র ডেপুটি কালেক্টর কৌশিক ভট্টাচার্য প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন, প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ না দিতে প্রশাসন সচেষ্ট থাকবে এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হবে।ফোরামের সম্পাদক মুহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ জানান, সকল নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখতে তাঁদের আন্দোলন ও প্রচেষ্টা আগামীতেও চলবে।


