বিশ্ব মুক্ত সংবাদমাধ্যম দিবস উপলক্ষ্যে রবিবার (৩ মে) বিজেপি এবং আরএসএসকে একযোগে আক্রমণ করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশে দেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ বাড়ছে।
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’ (X)-এ প্রকাশিত এক বিস্তারিত বার্তায় খাড়গে দাবি করেন, ২০১৪ সালের পর থেকে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচক’-এ ভারতের অবস্থান ধারাবাহিকভাবে অবনমন হয়েছে এবং বর্তমানে দেশটি ১৫৭তম স্থানে নেমে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমের একাংশ এখন সরকারের বক্তব্য প্রচারের মাধ্যম হয়ে উঠছে, অথচ সমালোচনামূলক প্রশ্ন তোলা সাংবাদিকরা নানা ধরনের চাপ ও আক্রমণের সম্মুখীন হচ্ছেন।
তিনি বলেন, “মুক্ত গণমাধ্যমের কাজ সরকারের প্রশংসা করা নয়; বরং ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং জনস্বার্থে প্রশ্ন তোলা।” ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু-র একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে খাড়গে বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাঁর মতে, বর্তমানে সেই স্বাধীনতা গুরুতরভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
খাড়গে অভিযোগ করেন, ভারতীয় জনতা পার্টি এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-ঘনিষ্ঠ মহল মানহানি আইন, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ধারা এবং ইউএপিএ-সহ বিভিন্ন আইনি বিধান ব্যবহার করে সাংবাদিকদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, ২০১৪ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ১৩৫ জনের বেশি সাংবাদিককে গ্রেপ্তার, আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অন্তত ৩৬ জন সাংবাদিক কারাবন্দি হয়েছেন।
নিজের বক্তব্যে বিভিন্ন রাজ্যে সাংবাদিক হত্যার ঘটনাও উল্লেখ করেন কংগ্রেস সভাপতি। তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতি ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে প্রতিবেদন করায় কয়েকজন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন, যা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত।
খাড়গে আরও বলেন, স্বাধীন মতপ্রকাশ সীমিত করতে সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলির ওপরও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তাঁর কথায়, “বার্তাটি স্পষ্ট—স্বাধীন সাংবাদিকতাকে শাস্তি দেওয়া হবে এবং সরকারের অনুগতদের পুরস্কৃত করা হবে।”
শেষে তিনি সমস্ত রাজনৈতিক দল, প্রতিষ্ঠান এবং নাগরিক সমাজের কাছে আত্মবিশ্লেষণের আহ্বান জানান। পাশাপাশি ক্ষমতাসীনদের গণতান্ত্রিক রীতি ও প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন, এই মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুতি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে।


