যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের নির্বাচিত মেয়র জোরান মামদানি জনপ্রিয় কফি ব্র্যান্ড স্টারবাকসের বিরুদ্ধে বয়কটের ডাক দিয়েছেন। স্টারবাকস কর্মীদের ‘ন্যায্য চুক্তি’র দাবিকে সমর্থন জানিয়ে তিনি জানিয়েছেন, সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত জনগণকে এই কোম্পানি থেকে দূরে থাকতে হবে। শুক্রবার এক্স-এ দেওয়া পোস্টে তিনি লেখেন, “দেশের স্টারবাকস কর্মীরা ন্যায্য চুক্তির জন্য লড়াই করছেন। তারা যতদিন ধর্মঘটে থাকবেন, ততদিন আমি স্টারবাকস থেকে কিছুই কিনব না। আপনাদেরও এই আন্দোলনে আমাদের সঙ্গে থাকার অনুরোধ জানাই।
নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্টারবাকসের কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য চুক্তির দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের বক্তব্য, কোম্পানি বারবার আলোচনা থেকে সরে যাচ্ছে এবং তাদের মৌলিক দাবি মেনে নিতে অনীহা দেখাচ্ছে। এবার রেড কাপ ডে উপলক্ষে তারা ‘রেড কাপ বিদ্রোহ’ নামক একটি বড় ধরনের ধর্মঘট শুরু করেছেন। রেড কাপ ডে স্টারবাকসের বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়, কারণ সেদিন বিনামূল্যে উৎসবের বিশেষ কাপ পেতে ক্রেতারা দোকানে লম্বা লাইন করেন। তাই এই সময়ে ওয়াকআউট করলে কোম্পানির ওপর বড় প্রভাব পড়বে বলে কর্মীরা মনে করছেন।
জানা গেছে, দেশের ২৫টিরও বেশি শহরের স্টারবাকস কর্মীরা ধর্মঘটে অংশ নিয়েছেন। তাদের দাবি, কোম্পানি আলোচনায় বসতে চায় না। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে এই ধর্মঘট ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে। অন্যদিকে, স্টারবাকস কর্তৃপক্ষ কর্মীদের দাবিকে অস্বীকার করেছে। কোম্পানির বক্তব্য, ইউনিয়নের দাবি অযৌক্তিক। তারা দাবি করেছে, স্টারবাকস তার কর্মীদের উচ্চ বেতন ও নানা সুবিধা প্রদান করছে। কোম্পানির অনুযায়ী, একজন কর্মী ঘণ্টায় গড়ে ১৯ ডলার পান, এবং অন্যান্য সুবিধাসহ মাসিক উপার্জন ৩০ ডলারেরও বেশি হয়ে যায়।
মেয়র মামদানির এই আহ্বানের পর নিউইয়র্কের সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই কর্মীদের প্রতি সমর্থন জানালেও, কেউ কেউ মনে করছেন বয়কটের আহ্বান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে কর্মীদের দাবি পূরণের জন্য চাপ বাড়ায় এই আন্দোলন যে আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিয়েছে, তা স্পষ্ট।


