‘নো এনআরসি, নো সেন্সাস’—এই দাবিকে সামনে রেখে গত কয়েক দিন ধরে উত্তাল মণিপুর। ইম্ফল উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, রাস্তা আটকে প্রতিবাদ এবং ৪৮ ঘণ্টার বন্ধের জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের দাবি ও রাজ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আপাতত মণিপুরে আদমশুমারির কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।সোমবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভাপতিত্বে দিল্লিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানে মণিপুরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল অজয়কুমার ভাল্লা, মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ সিং, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। বৈঠকের পরই আদমশুমারি নিয়ে আপাতত কাজ এগিয়ে না নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়।মণিপুরের বেশ কয়েকটি নাগরিক সংগঠন দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছে, রাজ্যে আদমশুমারির আগে নাগরিকদের নিয়ে একটি নির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন। মেইতেই এবং নাগা সম্প্রদায়ের একাংশের সংগঠনেরও একই দাবি রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, মায়ানমার থেকে অনেক মানুষ বেআইনিভাবে মণিপুরে ঢুকে বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছেন। আগে নাগরিকত্বের বিষয়টি পরিষ্কার না করে জনসংখ্যা গণনা করা হলে প্রকৃত বাসিন্দাদের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।এই আশঙ্কা থেকেই ‘নো এনআরসি, নো সেন্সাস’ স্লোগান সামনে এনে আন্দোলনে নামেন বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা। একাধিক জায়গায় রাস্তা অবরোধ করা হয়। বন্ধের কারণে স্বাভাবিক জনজীবনও ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নজরদারি বাড়ানো হয়। শেষ পর্যন্ত রাজ্যের মানুষের উদ্বেগ এবং আন্দোলনকারীদের দাবিকে গুরুত্ব দিয়ে সেন্সাসের কাজ অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এর মধ্যেই মণিপুরে নতুন করে হিংসার ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে। সোমবার সকালে কাংপোকপি জেলার তেইখাং গ্রামে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সূত্রের খবর, সকাল প্রায় ৮টা নাগাদ কয়েকজন বন্দুকধারী গ্রামে ঢুকে বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও চারজন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গিয়েছে।অভিযোগ, হামলাকারীরা গ্রামের কয়েকটি বাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয়। ফলে আতঙ্কে অনেকে এলাকা ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। টুইলাং এলাকার কুকি সিএসও ওয়ার্কিং কমিটি দাবি করেছে, এই হামলার পিছনে এনএসসিএন-আইএম এবং জেডইউএফ-কে-র সদস্যরা থাকতে পারেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একদিকে নাগরিকত্ব ও জনসংখ্যা গণনা নিয়ে চাপ, অন্যদিকে নতুন করে হিংসা—দুইয়ের জেরে মণিপুরের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
Popular Categories


