উত্তরপ্রদেশের মথুরার মনোহরপুরা এলাকার একটি পুরনো মুসলিম কবরস্থানকে ঘিরে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গভীর রাতে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে চলা বুলডোজার অভিযানে কবরস্থানটির একাধিক কবর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গত ২৬ এপ্রিল সকালে তারা দেখতে পান আহলে মুসলিমিন কবরস্থানের কয়েকটি কবর ভেঙে দেওয়া হয়েছে। কোথাও মাটি সরে গিয়ে কাফনের কাপড় পর্যন্ত বাইরে বেরিয়ে এসেছে। বহু পরিবার অভিযোগ করেছে, তাদের বাবা, দাদা এবং অন্যান্য আত্মীয়দের কবরও এই অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাসিন্দাদের বক্তব্য, রাতের অন্ধকারে জেসিবি মেশিন নিয়ে এসে কবরস্থানের ভেতরে কাজ করা হয়। এতে অন্তত নয়টি কবর নষ্ট হয়ে যায়। পাশাপাশি কবরস্থানের সীমানা প্রাচীরের অংশ, গাছপালা এবং সৌন্দর্যায়নের বিভিন্ন অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কবরস্থানটি দীর্ঘদিনের পুরনো এবং সরকারি নথিভুক্ত ওয়াকফ সম্পত্তি বলে জানা গেছে।
ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় মানুষ ও কবরস্থান পরিচালন সমিতির সদস্যরা উত্তরপ্রদেশ সরকারের অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার মাধ্যমে অভিযোগ জানান। এরপর মথুরা- বৃন্দাবন পুরসভা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের পর পুরসভার পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয় যে কবরস্থানের ভেতরে কয়েকটি কবর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসনের নথি অনুযায়ী, নয়টি কবরের ক্ষতির জন্য মোট ৯০০ টাকা ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়। অর্থাৎ প্রতিটি কবরের জন্য ১০০ টাকা করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
পরে আরও একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, ছয়টি গাছ এবং প্রায় ২০টি বেড়ার খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর জন্য অতিরিক্ত ২,৬০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মে মাসের শেষ দিকে কবরস্থান কমিটির নামে দুটি চেকও ইস্যু করা হয়।
তবে এই ক্ষতিপূরণে সন্তুষ্ট নন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের বক্তব্য, কবরের আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা সম্ভব হলেও মৃত মানুষের প্রতি অসম্মানের ক্ষতিপূরণ কোনও টাকায় মেটানো যায় না। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, পরিবারের প্রিয়জনদের কবর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার যন্ত্রণা কি কয়েকশো টাকায় পূরণ করা সম্ভব?
এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, কবরস্থানে শায়িত মানুষের মর্যাদা রক্ষা করা উচিত ছিল। অথচ প্রশাসনের কাজে সেই মর্যাদাই ক্ষুণ্ণ হয়েছে। অন্য এক ব্যক্তি জানান, এটি শুধু কবর ভাঙার ঘটনা নয়, বরং একটি সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুভূতির উপর আঘাত।
স্থানীয় মুসলিমদের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে মথুরায় তাঁদের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বেড়েছে। কবরস্থান নিয়ে আগেও একাধিক বিতর্ক হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। ফলে সাম্প্রতিক ঘটনাকে তারা বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছেন না।
যদিও প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে, তবুও স্থানীয়দের একাংশের মতে, বিষয়টি শুধু আর্থিক ক্ষতির নয়। তাঁদের দাবি, আইনগত স্বীকৃত একটি কবরস্থানে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। ঘটনাটি নিয়ে এখনও এলাকায় আলোচনা ও ক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।


