নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে ঘিরে মন্তব্য এবং তাঁকে নিয়ে বিতর্কের জেরে ফের সরব হলেন সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বৃহস্পতিবার ‘বঙ্গ বিভূষণ’ সম্মান ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি নিশানা করেন অনন্ত রায়কে। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ও তৃণমূল—দুই দলই বিভিন্ন সময়ে অনন্ত রায়কে গুরুত্ব দিয়েছে, অথচ এখন তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক অবস্থানে নানা অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে।সেলিমের বক্তব্য, অনন্ত রায়কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘মহারাজ’ বলে পরিচিত করেছিলেন। তাঁর দাবি, নেতাজীকে নিয়ে অনন্ত রায়ের বক্তব্যের মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র সুভাষচন্দ্র বসুর ভাবমূর্তিকে আঘাত করে। একই সঙ্গে রাজ্যের মানুষের মধ্যে বিভাজনের রাজনীতি করারও অভিযোগ তোলেন তিনি।সিপিএম-এর রাজ্য সম্পাদকের বক্তব্যে উঠে আসে আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, নেতাজীর নেতৃত্বে গঠিত আইএনএ-তে বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে লড়াই করেছিলেন। তাঁর মতে, হিন্দু, মুসলিম ও শিখ—সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণই নেতাজীর রাজনৈতিক ভাবনার অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল। ব্রিটিশদের করা আজাদ হিন্দ ফৌজের বিচারেও প্রেম কুমার সেহগল, শাহনওয়াজ খান এবং গুরুবক্স সিং ধিলোঁর নাম উল্লেখ করেন সেলিম।এই প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিজেপি ও আরএসএসের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করেন। সেলিমের দাবি, নেতাজীর ধর্মনিরপেক্ষ ও ঐক্যের ভাবনার সঙ্গে বর্তমান হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির মিল নেই। গান্ধীকে ঘিরে বিজেপি ও আরএসএসের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির প্রতিষ্ঠার সময় ‘গান্ধীবাদী সমাজতন্ত্র’-এর কথা বলা হলেও বর্তমানে সেই অবস্থান থেকে দল অনেকটাই সরে এসেছে।এদিন শুভেন্দু অধিকারীর একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গও তোলেন সেলিম। নেতাজীকে অপমান করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলে, তাঁর মতে, সেই নিয়ম সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে কার্যকর হওয়া উচিত। তিনি শমীক ভট্টাচার্য এবং অনন্ত রায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।পাশাপাশি রামপুরহাটের একটি রাস্তার নাম পরিবর্তনের বিষয়ও সামনে আনেন সেলিম। তাঁর অভিযোগ, একদিকে নেতাজীকে অপমানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থানের কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে কোথাও সুভাষচন্দ্র বসুর নাম সরিয়ে অন্য নাম দেওয়া হচ্ছে। এই দ্বৈত অবস্থান নিয়েই বিজেপিকে আক্রমণ করেন তিনি।
Popular Categories


