দেশের স্কুলশিক্ষার পরিকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল সংসদীয় এস্টিমেট কমিটি। কমিটির রিপোর্টে উঠে এসেছে, প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিকে পৌঁছতে পৌঁছতে বিপুল সংখ্যক পড়ুয়া শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ছিটকে যাচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রাথমিক স্তরে ভর্তি হওয়া ১০০ জন পড়ুয়ার মধ্যে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পৌঁছে মাত্র ২৩ জন পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। অর্থাৎ, প্রায় ৭৩ শতাংশ পড়ুয়া দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা দেওয়ার আগেই স্কুলছুট হয়ে যাচ্ছে।সুলভে উন্নত মানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের বাজেট, নীতি এবং সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশনের কাজকর্ম পর্যালোচনা করে এই রিপোর্ট তৈরি করেছে কমিটি। বুধবার সংসদে রিপোর্টটি পেশ করা হয়। সেখানে স্কুলশিক্ষার বিভিন্ন দুর্বলতা এবং দীর্ঘদিনের সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে।রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশে প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্কুলের সংখ্যা অনেক বেশি হলেও সেই তুলনায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের সংখ্যা যথেষ্ট নয়। ২০২৪-২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের মোট সংখ্যা ১০,৯২,৬৭১। এর মধ্যে প্রাথমিক স্কুল রয়েছে ৯,১১,০৩২টি এবং উচ্চ প্রাথমিক স্কুল ৪,১২,৮০৫টি। কিন্তু মাধ্যমিক স্কুলের সংখ্যা ১,৬১,৮০৮ এবং উচ্চমাধ্যমিক স্কুল মাত্র ৯০,৮৬৬টি।কমিটির মতে, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পর্যাপ্ত স্কুল না থাকাও পড়ুয়াদের পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার অন্যতম কারণ। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চ প্রাথমিক স্কুলগুলির পরিকাঠামো উন্নত করে সেগুলিকে মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক স্তরে উন্নীত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।পড়ুয়ার সংখ্যার ক্ষেত্রেও বড় ফারাক দেখা যাচ্ছে। প্রাথমিক স্তরে প্রায় ৬.১৮ কোটি এবং উচ্চ প্রাথমিক স্তরে প্রায় ৪.০৯ কোটি পড়ুয়া থাকলেও মাধ্যমিকে সেই সংখ্যা নেমে আসে প্রায় ২.৩৭ কোটিতে। উচ্চমাধ্যমিকে তা আরও কমে প্রায় ১.৬৪ কোটিতে দাঁড়িয়েছে।শুধু স্কুলের সংখ্যা নয়, শিক্ষার মান ও পরিকাঠামোর সমস্যাও রিপোর্টে গুরুত্ব পেয়েছে। অনেক জায়গায় সময়মতো সরকারি পাঠ্যবই পৌঁছয় না। ফলে পুরনো বই দিয়েই ক্লাস চালাতে হয়। এনসিআরটি-র নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী বই প্রকাশে দেরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে বলে কমিটি জানিয়েছে।ডিজিটাল শিক্ষার ক্ষেত্রেও একই সমস্যা রয়েছে। বহু স্কুলে কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সুবিধা পর্যাপ্ত নয়। ফলে নতুন ধরনের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে পড়ুয়াদের তাল মেলাতে সমস্যা হচ্ছে। গ্রাম ও ছোট শহরের বহু স্কুলে এই সমস্যা আরও প্রকট।শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিয়েও রিপোর্টে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ২০২২ সালে অনলাইন প্রশিক্ষণে প্রায় ৫৩ লক্ষ শিক্ষক অংশ নিলেও ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা কমে প্রায় ১.৬ লক্ষে দাঁড়িয়েছে। বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের খরচ অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের বহন করতে হয়। ফলে বহু শিক্ষক প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।স্কুলছুট কমাতে দ্রুত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুলের সংখ্যা বাড়ানো, পরিকাঠামো উন্নত করা, সময়মতো বই সরবরাহ এবং ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। রাজ্যগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে কেন্দ্রকে এই বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করার কথাও বলা হয়েছে।
Popular Categories


