নয়াদিল্লিতে অবস্থিত ইরান দূতাবাস-এ আয়োজিত এক বিশেষ প্রদর্শনীতে উঠে এল এক মর্মান্তিক বাস্তবের ছবি। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে সাধারণ শিশুদের আঁকা—নীল-সবুজ পৃথিবী, উজ্জ্বল সূর্য, রঙিন পাখি আর চলন্ত স্কুল বাস। কিন্তু এই ছবিগুলির মধ্যে কোথাও নেই সেই ছোট্ট শিল্পীরা, যারা এগুলো এঁকেছিল।এই প্রদর্শনীর মূল বিষয় ছিল ইরানের মিনাব শহরের এক স্কুলে ভয়াবহ হামলায় নিহত শিশুদের স্মৃতি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান–আমেরিকা–ইসরায়েল সংঘাত শুরুর সময়েই এই ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে ভেঙে পড়ে শাজারে তাইয়্যেবেহ বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়। সেখানে পড়ুয়া পাঁচ থেকে সাত বছর বয়সী প্রায় ১৬০ জন শিশু প্রাণ হারায়।“মিনাবের শিশুরা এখনও সূর্য আঁকে”—এই নামের প্রদর্শনীটি শুধুমাত্র শিল্প প্রদর্শন নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া শিশুদের প্রতি এক নীরব শ্রদ্ধাঞ্জলি। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া স্কুল ব্যাগ থেকে উদ্ধার করা হয় এই আঁকাগুলি। উদ্ধারকাজে যুক্ত ছিল রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-এর সদস্যরা। পরে সেগুলি যত্ন করে ঠিক করা হয় এবং ডিজিটাল রূপ দেওয়া হয়, যাতে সারা বিশ্বের বিভিন্ন দূতাবাসে পাঠানো যায়।অনেক ছবিতেই একটি ফারসি বাক্য বারবার দেখা গেছে—“আমাদের শিশুরা যেন সুখ খুঁজে পায়।” এই কথাগুলো যেন প্রতিটি দর্শকের মনে নাড়া দিয়েছে। প্রদর্শনী দেখতে আসা মানুষদের মধ্যে ছিল নানা বয়সের মানুষ। গ্যালারির পরিবেশ ছিল নীরব, ভারী। অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।প্রদর্শনীর সঙ্গে রাখা হয়েছিল কিছু ছবি ও ভিডিও, যেখানে দেখা গেছে উদ্ধারকাজের কঠিন মুহূর্ত এবং নতুন খোঁড়া কবরের দৃশ্য। এসব দৃশ্য আরও গভীরভাবে স্পর্শ করেছে দর্শকদের মন। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক গল্পগুলির একটি ছিল মাকান নিসিরি নামের এক শিশুকে নিয়ে। তার জুতো একটি গাছের ডালে ঝুলতে পাওয়া গেলেও, তার দেহ আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।দর্শনার্থীরা তাদের অনুভূতি লিখে গিয়েছেন। কেউ সহিংসতার নিন্দা করেছেন, কেউ শান্তির জন্য প্রার্থনা করেছেন। এই প্রদর্শনী শেষ পর্যন্ত মনে করিয়ে দেয়, শিশুদের আঁকা ছবিতে যেমন রঙিন ও সুন্দর পৃথিবী দেখা যায়, বাস্তবের পৃথিবী তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেনি।
Popular Categories


