রাষ্ট্রসংঘ ১৯৯২ সালের ১৮ ডিসেম্বর ধর্মীয়, জাতিগত ও ভাষাগত সংখ্যালঘুদের অধিকার সংক্রান্ত ঘোষণা গ্রহণ করে। সেই দিনকে স্মরণ করেই প্রতি বছর এই দিবস পালিত হয়। অন্যান্য বছরের মতো এবারও পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিনটি পালন করা হচ্ছে।
আজ, ১৮ ডিসেম্বর সারা রাজ্য জুড়ে পালিত হচ্ছে সংখ্যালঘু অধিকার দিবস। এই উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নানা অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হল ভাষাগত, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
আজকের দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হবে মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে রবীন্দ্র ভবনে। জেলা সংখ্যালঘু বিষয়ক দপ্তর বা ডোমা অফিস এই অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করছে। এবারের আলোচনার বিষয়, ‘প্রত্যেকেরই কণ্ঠস্বর মূল্যবান—সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলির সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা’।অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাংসদ অধ্যাপক সামিরুল ইসলাম এবং বিধায়ক মোশারফ হুসেন। সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে মূল বক্তব্য রাখবেন প্রতীচী ট্রাস্টের সাবির আহমেদ। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন সাংসদ খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান, ইউসুফ পাঠান, মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা, বিধায়ক অপূর্ব সরকারসহ আরও অনেকে। পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান আহমদ হাসান ইমরান, সদস্য-সচিব নুজহাত জয়নাব এবং কমিশনের বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে থাকবেন।
এদিকে কলকাতার রাণী রাসমণি অ্যাভিনিউতে দুপুর ১২টায় বঙ্গীয় সংখ্যালঘু বুদ্ধিজীবী মঞ্চের প্রতিষ্ঠা দিবস ও সংখ্যালঘু অধিকার দিবস উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি ওয়ায়েজুল ইসলামসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি এতে অংশ নেবেন।
তাছাড়া বেঙ্গল মাইনরিটি ফোরামের উদ্যোগে কলকাতার অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে দুপুর আড়াইটায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংখ্যালঘু অধিকার, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক ঐক্য ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে এই আলোচনা সভায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সিয়ামত আলী ও সভাপতি শেখ মইনুল হক। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের অনিমা ভবনেও বঙ্গীয় সংখ্যালঘু পরিষদের কর্মসূচি রয়েছে।


