উৎসবের মরসুমের আগে মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্য সামনে আসছে নতুন চিন্তার খবর। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে দেশের টেলিকম পরিষেবার খরচ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ বার মোবাইল রিচার্জ বা মাসিক বিলের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি টাকা গুনতে হতে পারে গ্রাহকদের। যদিও টেলিকম সংস্থাগুলির তরফে এখনও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
সম্প্রতি এই সম্ভাবনা নিয়ে মুখ খুলেছেন আর্থিক সংস্থা ‘সেন্ট্রাম ইন্ডিয়া’-র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট পীযূষ পাণ্ডে। তাঁর বক্তব্য, আগামী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে দেশের টেলিকম ক্ষেত্রে নতুন করে দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। সেই ক্ষেত্রে প্রিপেড গ্রাহকদের রিচার্জের খরচ যেমন বাড়বে, তেমনই পোস্টপেড ব্যবহারকারীদের মাসিক বিলও আগের তুলনায় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে ভারতে একাধিক সরকারি ও বেসরকারি টেলিকম পরিষেবা চালু রয়েছে। তবে গ্রাহক সংখ্যার দিক থেকে বেসরকারি সংস্থাগুলিই বাজারে এগিয়ে। ভারতী এয়ারটেল, রিলায়্যান্স জিয়ো এবং ভোডাফোন আইডিয়ার মতো সংস্থাগুলির পরিষেবা ব্যবহার করেন দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ। পীযূষ পাণ্ডের মতে, এই সংস্থাগুলি আগামী দিনে নিজেদের ট্যারিফ বা পরিষেবার দাম বাড়াতে পারে।
তবে সব সংস্থার ক্ষেত্রে একই হারে খরচ বাড়বে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কোনও সংস্থা যদি ১০ শতাংশ দাম বাড়ায়, অন্য কোনও সংস্থা তার চেয়ে কিছুটা বেশি বা কম বাড়াতে পারে। ফলে কোন সংস্থার গ্রাহক কতটা অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়বেন, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নতুন পরিকল্পনার উপর। রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থা বিএসএনএল এই পরিস্থিতিতে কী সিদ্ধান্ত নেবে, তা এখনও পরিষ্কার নয়। ফলে সরকারি সংস্থার গ্রাহকদের জন্যও এখনই কোনও নির্দিষ্ট হিসাব দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের অনুমান, চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে নতুন দাম কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশের বড় বেসরকারি টেলিকম সংস্থাগুলি একসঙ্গে পরিষেবার দাম বাড়িয়েছিল। প্রায় দুই বছর পর ফের যদি ট্যারিফ বাড়ে, তাহলে নিয়মিত মোবাইল ব্যবহারকারীদের মাসিক খরচে তার প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে বেশি ডেটা ব্যবহার করেন এমন গ্রাহকদের বাড়তি খরচের চাপ আরও বেশি হতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত দাম কতটা বাড়বে এবং কোন কোন প্ল্যানে পরিবর্তন আসবে, সে বিষয়ে সংস্থাগুলির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।


