মহারাষ্ট্রের হোটেল ও রেস্তরাঁয় খাবারের মান পরীক্ষা এবং নিয়ম ভাঙার অভিযোগে একের পর এক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা নিয়ে লিখতে গিয়ে বিতর্কে জড়ালেন অভিনেত্রী তথা লেখক ট্যুইঙ্কল খন্না। তাঁর ব্যঙ্গাত্মক লেখায় মুঘল আমলের খাবারের প্রসঙ্গ উঠে আসতেই সমাজমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। নেটিজেনদের একাংশ তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন।
অভিনয় জগত থেকে বেশ অনেকদিন আগেই সরে এসেছেন ট্যুইঙ্কল। বর্তমানে লেখালেখি এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার সঙ্গে যুক্ত তিনি। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রে খাদ্য নিরাপত্তা দফতরের অভিযানের জেরে বেশ কিছু হোটেল ও রেস্তরাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই একটি রসাত্মক লেখা প্রকাশ করেন ট্যুইঙ্কল।
লেখায় মহারাষ্ট্রের খাদ্য নিরাপত্তা বিভাগের কমিশনার তুকারাম মুন্ডের নাম উল্লেখ করে তাঁর অভিযানকে মজার ছলে তুলে ধরেন ট্যুইঙ্কল। প্রশাসনের নজরদারির কারণে একের পর এক রেস্তরাঁয় তালা পড়ার বিষয়টিকেও তিনি ব্যঙ্গের মাধ্যমে প্রকাশ করেন। এমনকি নিজের খাবারের পছন্দের কথাও লেখায় টেনে আনেন তিনি।
তবে বিতর্কের সূত্রপাত হয় লেখার অন্য একটি অংশকে ঘিরে। ইতিহাসের পাঠ্যবই থেকে মুঘল শাসনের প্রসঙ্গ বাদ দেওয়ার দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে বিতর্ক রয়েছে। সেই প্রসঙ্গ টেনে ট্যুইঙ্কল প্রশ্ন তোলেন, যদি মুঘল যুগের ইতিহাসকে গুরুত্ব না দেওয়া হয়, তাহলে সেই সময়ের সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচিত নানা খাবারও কি বাদ দেওয়া উচিত? উদাহরণ হিসেবে তিনি কোফতা, কোর্মা, কাবাব এবং মুঘলাই ধরনের বিভিন্ন পদ নিয়ে ব্যঙ্গ করেন।
এই মন্তব্যই সমাজমাধ্যমে একাংশের আপত্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, ভারতে কোফতা, কাবাব বা বিভিন্ন মশলাদার মাংসের পদ মুঘলদের হাত ধরেই প্রথম এসেছে—এমন ধারণা ঠিক নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বহু খাবারের ইতিহাস অনেক পুরনো এবং সেগুলির সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতিরও যোগ রয়েছে।
আবার কেউ কেউ বলেন, কোনও খাবারের জনপ্রিয়তা আর সেই খাবারের সঙ্গে যুক্ত ঐতিহাসিক শাসকদের ভূমিকা এক বিষয় নয়। বিদেশি খাবার জনপ্রিয় হলেই সেই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। একইভাবে কোনও খাবারের উৎস নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ইতিহাসের বিতর্কিত অধ্যায়কে টেনে আনা কতটা যুক্তিসঙ্গত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সব মিলিয়ে, খাবারের গুণমান নিয়ে শুরু হওয়া আলোচনা এখন ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং মুঘল আমলকে ঘিরে বিতর্কে পৌঁছে গিয়েছে। ট্যুইঙ্কল খন্নার ব্যঙ্গাত্মক লেখাকে ঘিরে সমাজমাধ্যমে মতবিরোধও ক্রমশ বাড়ছে।


