পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার, ২৮ জানুয়ারি কলকাতা বইমেলায় SIR সংক্রান্ত নতুন কবিতার বই প্রকাশ করেন। সেদিন তিনি একটি কবিতা পাঠও করেন। কিন্তু একই সময়ে কলকাতার উপকণ্ঠ আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়ে রাজ্যজুড়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। ২৬ জানুয়ারি নাজিরাবাদে একটি গুদামে আগুন লাগে। আগুন দ্রুত পাশের আরেকটি গুদাম ও একটি মোমো তৈরির কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে দুটি গুদাম ও কারখানা সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। এখন পর্যন্ত সেখান থেকে ২১টির বেশি দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এখনও ২৬ থেকে ২৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দমকল কর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে পোড়া দেহের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আনন্দপুর, মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি হারিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট থেকে মাত্র ৩০ মিনিটের দুরত্বে অবস্থিত। তবুও ঘটনার দু’দিন পরেও মুখ্যমন্ত্রী ঘটনাস্থলে যাননি। অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ৩২ ঘণ্টা পরে, ২৭ জানুয়ারি দমকলমন্ত্রী সুজিত বোস সেখানে পৌঁছান।
এর মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজে যোগ দেন, এবং সিঙ্গুরে গিয়ে একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। সেখানেই তিনি তাঁর কবিতাও পাঠ করেন। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিরোধীরা তীব্র আক্রমণ করছে, এত বড় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হওয়া সত্ত্বেও কেন এখনো পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হলো না ওয়াও মোমোর মালিককে? ওয়াও মোমোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ৩ জন কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। মৃত কর্মীদের পরিবারকে আজীবন মাইনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াও মোমো। তবে, ঘটনাস্থল থেকে ২১ টির বেশি দগ্ধ দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, জলাভূমি বুঝিয়ে বেআইনিভাবে কারখানা ও গোডাউন নির্মাণ করা হয়েছে আনন্দপুরে, যা সরকারের প্রত্যক্ষ মদদ ছাড়া কখনোই সম্ভব নয়। সূত্র মারফত খবর, পশ্চিমবঙ্গের প্রান্তিক এলাকা থেকে একাধিক দরিদ্র অসহায় মানুষরা কাজ করতেন এই প্রতিষ্ঠানে। প্রশ্ন উঠছে, কারখানার শ্রমিকদের মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য দায় কার, সরকারের নাকি মোমো কারখানার মালিকের?


