মুম্বই পুরসভার নির্বাচনী প্রচারে এক কর্মীর ব্যাগে ফিলিস্তিনের পতাকার ছবি থাকাকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই ঘটনায় বিপ্লবী শ্রমিক পার্টি অব ইন্ডিয়া (আরডব্লিউপিআই)-র এক প্রার্থীকে আইনি নোটিস দিয়েছে মুম্বই পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে মানবাধিকার ও ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন সংগঠন পুলিশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছে।
আরডব্লিউপিআই প্রার্থী প্রজ্ঞা প্রভুলকর জানিয়েছেন, ৩ জানুয়ারি গোভান্ডির ভুজবলওয়াড়িতে তার নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। তার সঙ্গে থাকা এক মহিলা কর্মীর ব্যাগে ফিলিস্তিনের পতাকার নকশা ছিল। ওই ব্যাগটি তিনি নিয়মিত ব্যবহার করেন বলে জানিয়েছেন প্রভুলকর। তবে পুলিশ সেই ছবিকে বেআইনি বলে উল্লেখ করে এবং এতে এলাকার শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে বলে দাবি করে।
প্রভুলকরের অভিযোগ, প্রচারের সময় পুলিশ প্রথমে জানায়, রুটিন কাজের জন্যই ছবি তোলা হচ্ছে। কিন্তু প্রচার শেষ হওয়ার পর দেওনার থানার সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টর রমেশ যাদব তাদের থানায় ডেকে পাঠান। সেখানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৮ ধারা অনুযায়ী তাকে নোটিস দেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, ফের এমন কিছু ঘটলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনাকে রাজনৈতিক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চাপ বলে দাবি করেছেন প্রভুলকর। তার মতে, মুম্বইয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বললেই নানা ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক সমাজকর্মী। ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়ানোকে কীভাবে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা বলা যায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমাজকর্মী ডা. পূজা ভ্রুশালি। তিনি বলেন, একই এলাকায় উস্কানিমূলক বক্তব্যে পুলিশের নীরবতা দ্বিচারিতার পরিচয়।
ইন্ডিয়া প্যালেস্টাইন সলিডারিটি ফোরামের ফেরোজ মিথিবোরওয়ালাও এই নোটিসের নিন্দা করেছেন। তার মতে, সরকারি ভাবে ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষকে তা প্রকাশ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি নিয়ে দেওনার থানার সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনও উত্তর মেলেনি। পুলিশ কেন এই পতাকাকে বেআইনি বলেছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।


