বীরভূম জেলার মুরারই বিধানসভা এলাকার রাজগ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত ঝাড়খণ্ড সীমান্তবর্তী মোহনপুর আদিবাসী গ্রামে তীব্র পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রীষ্মের শুরুতেই জলস্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এলাকার নলকূপগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় জল সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম কষ্টের মুখে পড়তে হচ্ছে গ্রামবাসীদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই অঞ্চলের মাটি পাথুরে হওয়ায় এখানে জল সংরক্ষণ বড় সমস্যা। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। সরকারি উদ্যোগে বসানো গভীর নলকূপ থেকেও এখন আর জল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে দূরের জলের উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের, বিশেষ করে মহিলাদের। প্রতিদিন অনেকটা পথ হেঁটে জল আনতে হচ্ছে তাঁদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় পানীয় জল সরবরাহের জন্য পাইপলাইন ও ট্যাপ বসানো হলেও তাতে জল পৌঁছায় না। বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও স্থায়ী সমাধান মেলেনি বলে তাঁদের দাবি।
প্রায় তিন বছর আগে জল সরবরাহ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল বলে জানা যায়। সেই সময় গ্রামে পাইপ বসানো হয় এবং বাড়ি বাড়ি কল সংযোগ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু আজও সেই প্রকল্প কার্যকর হয়নি। ওভারহেড ট্যাঙ্ক তৈরির পরিকল্পনাও বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। জল তোলার জন্য প্রয়োজনীয় উৎস না পাওয়ায় পুরো প্রকল্পই থমকে রয়েছে।
এলাকার অন্য গ্রামগুলিতেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকল্প হিসেবে নদী থেকে জল এনে সরবরাহের কথা ভাবা হয়েছিল, কিন্তু সেই পরিকল্পনাও আর এগোয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই সমস্যার সমাধান হয়নি।
শুধু জল নয়, শিক্ষার ক্ষেত্রেও উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন গ্রামবাসীরা। বহু স্কুলে শিক্ষক সংকট চরমে পৌঁছেছে। কোথাও একজন, কোথাও বা দু’জন শিক্ষক দিয়ে চলছে পুরো স্কুল। এতে পড়াশোনার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ।


