২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ জঙ্গি হামলার এক বছর পূর্ণ হল বুধবার। সেই দিনটির স্মৃতি আজও তাজা রয়ে গেছে দেশের মানুষের মনে। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরা এই পর্যটনকেন্দ্র মুহূর্তের মধ্যে রক্তাক্ত হয়ে উঠেছিল জঙ্গি হামলায়।
ঘটনার দিন নিরস্ত্র পর্যটকদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা। প্রাণ হারান মোট ২৬ জন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা গুলি চালানোর আগে পর্যটকদের পরিচয় ও ধর্ম সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল। যারা প্রাণে বেঁচে ফিরেছিলেন, তাঁদের উদ্দেশে হুমকির সুরে নানা কথা বলে জঙ্গিরা। সেই নারকীয় ঘটনার পর গোটা দেশ স্তব্ধ হয়ে যায়।
এই হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, দুই দেশের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষও শুরু হয়। আন্তর্জাতিক স্তরেও এই ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিভিন্ন দেশ নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে, ফলে বিশ্বমঞ্চেও বিভাজন তৈরি হয়।
এক বছর কেটে গেলেও এই হামলা ঘিরে একাধিক প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। জানা গিয়েছে, হামলার আগে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির তরফে সম্ভাব্য বিপদের কথা জানানো হয়েছিল। এমনকি কেন্দ্রীয় স্তরে বৈঠকও হয়েছিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে। তবুও কেন পর্যাপ্ত সতর্কতা নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। হামলার সময় ওই এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি ছিল না বলেও অভিযোগ।
তদন্তে উঠে এসেছে, হামলার কয়েকদিন আগেই জঙ্গিরা ওই অঞ্চলে ঢুকে পড়েছিল। পরে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে নিরাপত্তা বাহিনী এনকাউন্টারে হত্যা করে। তবে কীভাবে তারা এতদিন নজরের বাইরে রইল, তা নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, যেখানে এই হামলা ঘটে, সেই অঞ্চল প্রতি বছর অমরনাথ যাত্রার পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কাছেই নিরাপত্তা বাহিনীর শিবির থাকা সত্ত্বেও কেন ওই স্থানে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ছিল না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এমনও জানা যায়, ঘটনার কিছু সময় আগে ওই এলাকা থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি অংশ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
হামলার পর স্থানীয় পুলিশ যে সন্দেহভাজনদের ছবি প্রকাশ করেছিল, পরে তদন্তকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি জানায়, সেগুলি পুরোপুরি সঠিক ছিল না। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনার জন্য কোনও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, মোদি সরকারের আমলে সংবিধানের আর্টিকেল ৩৭০ বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে রূপান্তরিত করা হয়। এরপর উপত্যকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরণ রিজিজুও পর্যটন বৃদ্ধির কথা বলেছিলেন। কিন্তু পহেলগাঁওয়ের এই মর্মান্তিক ঘটনা দেখিয়ে দেয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এখনও ফাঁক রয়ে গিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।


