২০২৫ সালে দেশে মুসলিমদের উপর হিংসার নানান ঘটনা তুলে ধরল মুম্বইয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সেন্টার ফর স্টাডি অব সোসাইটি অ্যান্ড সেক্যুলারিজম’ (CSSS) এবং ‘ইন্ডিয়া হেট ল্যাব’। তাদের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, গণপিটুনি এবং ঘৃণাভাষণের ভয়াবহ ছবি উঠে এসেছে।
সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে মোট ২৮টি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে। এই দাঙ্গায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ৩৬০ জন। সবচেয়ে বেশি দাঙ্গা হয়েছে মহারাষ্ট্রে। এরপর রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ ও গুজরাত। মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খণ্ড, অসম এবং উত্তরাখণ্ডেও একাধিক দাঙ্গার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। দক্ষিণ ভারতের কোনও রাজ্যে এই সময় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার খবর মেলেনি।
দাঙ্গার বড় অংশের সূত্রপাত হয়েছে ধর্মীয় শোভাযাত্রা বা উৎসবকে ঘিরে। রাম নবমী, হনুমান জয়ন্তী, ঈদ কিংবা গরবা অনুষ্ঠান চলাকালীন একাধিক জায়গায় অশান্তি ছড়িয়েছে। এছাড়াও ওয়াকফ সংশোধনী আইন নিয়ে বিক্ষোভ থেকেও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে গণপিটুনির ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালে অন্তত ১৪টি গণপিটুনির ঘটনায় ৮ জন মুসলিমের মৃত্যু হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ। মিথ্যা গরু পাচারের অভিযোগে , অবৈধ অনুপ্রবেশকারী সন্দেহ, কিংবা ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগ তুলে বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিমদের উপর হামলা হয়েছে। উড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ এবং কেরালায় এমন একাধিক ঘটনার কথা সমীক্ষায় রয়েছে।
এছাড়াও ঘৃণাভাষণের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ‘ইন্ডিয়া হেট ল্যাব’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট ১,৩১৮টি ঘৃণাভাষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, যার প্রায় সবকটিই মুসলিমদের লক্ষ্য করে। রাজনৈতিক সভা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সামাজিক মাধ্যমে এই ভাষা ছড়ানো হয়েছে।
CSSS-এর অভিযোগ, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে মুসলিমদের উপর হিংসার ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নের মুখে। সমীক্ষার মতে, বহু ক্ষেত্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হলেও হিন্দু অভিযুক্তদের রক্ষা করা হয়েছে। এতে আইনের নিরপেক্ষতা এবং সংবিধানপ্রদত্ত সমতার অধিকার নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


