উত্তর-পূর্ব দিল্লির মুস্তাফাবাদ এলাকায় পরীক্ষার পর বাড়ি ফেরার পথে দুই মুসলিম ছাত্রের ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।জানা গিয়েছে, গত ১৬ মার্চ ক্লাস ১২-র বোর্ড পরীক্ষা দিয়ে ফিরছিল ১৭ বছরের মহম্মদ ফাইজান এবং তার বন্ধু, যার নামও ফাইজান। তারা তুখমিরপুরের একটি সরকারি স্কুলের ছাত্র। পরিবারের দাবি, পরীক্ষা শেষ করে একজন জোহরের নামাজ পড়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। জানা গিয়েছে, যে সময় ঘটনাটি ঘটে ফাইজান রোজা রেখেছিল এবং তার মাথায় টুপি ছিল, যার কারণে তাকে সহজেই চিহ্নিত করা যায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ বলে।প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, কয়েকজন যুবক হঠাৎ পিছন থেকে এসে তাদের পথ আটকে দাঁড়ায়। প্রথমে নাম জিজ্ঞাসা করা হয়। এরপর ওই দুই মুসলিম ছাত্রকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু হয়।অভিযোগ, হামলাকারীরা লাঠি, ঘুষি, স্ক্রু ড্রাইভারসহ বিভিন্ন জিনিস দিয়ে আঘাত করে। মারাত্মকভাবে জখম হয় মহম্মদ ফাইজান। জানা গিয়েছে ,তার নাকে গুরুতর চোট লাগে এবং ঠোঁটে একাধিক সেলাই করতে হয়। পরে যে সব সহপাঠীরা পালিয়ে গিয়েছিল, তারাই ফিরে এসে পুলিশে খবর দেয়। প্রথমে কাছের একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।ফাইজানের ভাই মহম্মদ রাশুদ জানিয়েছেন, বাড়ি ফেরার পরও তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। নাক দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ হচ্ছিল না। রোজা এবং পরীক্ষার চাপের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটে, যা তাদের পরিবারকে ভেঙে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ঈদের জন্য নতুন জামা কেনার পরিকল্পনা ছিল ফাইজানের। এখন সে বাড়িতে আহত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার আর্জি জানানো হয়েছে।এই ঘটনার পর পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। অনেকেই শিশুদের বাইরে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। ঘটনার তদন্ত শুরু হলেও, এটি ঘৃণাজনিত অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নই তোলে না, বরং সামাজিক সম্প্রীতির উপরও বড় আঘাত হানে।
Popular Categories


