গুজরাটের সুরাতে প্রধানমন্ত্রীর নামে একটি পাইকারি মাছের বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। নানপুরার লক্কড়কোট এলাকায় পুরসভার তৈরি বাজারটির সামনে ‘শ্রী নরেন্দ্র মোদি হোলসেল ফিশ মার্কেট’ লেখা বোর্ড দেখা যায়। বোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবিও ছিল। সেটি প্রকাশ্যে আসার পরেই আপত্তি ওঠে ব্যবসায়ীদের একাংশের মধ্যে।
আপত্তির পেছনে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যাভ্যাসও। নরেন্দ্র মোদি নিরামিষ খাবার খান বলে পরিচিত। তাই তাঁর নামের সঙ্গে মাছের বাজারের নাম জুড়ে দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। মৎস্য ব্যবসায়ী সুরেন্দ্র লস্করির বক্তব্য, এমন নামকরণ প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তির সঙ্গে বেমানান।
ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হতেই বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নামে সুরাত পুরসভা। পুরসভার বক্তব্য, বাজারটির নাম চূড়ান্ত করার সরকারি প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। তার আগেই ওই নামের বোর্ড লাগানো হয়েছিল। বিতর্ক বাড়ার পর বোর্ডটি সাদা কাপড় দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
পুরসভার এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার আর ডি গাঞ্জাওয়ালা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নামে বাজারটির নাম রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল সুরাত ফিশ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন। এই বিষয়ে পুরসভার সংশ্লিষ্ট দফতরে লিখিত আবেদন জমা পড়েছিল। তবে নামের অনুমোদন চূড়ান্ত হওয়ার আগেই বোর্ড বসানো হয় বলে তাঁর দাবি। বিষয়টি সংগঠনকে জানানো হয়েছে এবং বোর্ড সরিয়ে নেওয়ার কথাও তারা জানিয়েছে বলে পুরসভার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে পুরসভার বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় ব্যবসায়ীদের সংগঠন। তাদের সভাপতি কল্পেশ নভসারিওয়ালা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনার আওতায় বাজার তৈরির জন্য সরকার প্রায় ৩ কোটি টাকা দিয়েছে। তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগেই এই প্রকল্প চালু হয়েছিল। তাই তাঁকে সম্মান জানাতে বাজারটির নাম প্রধানমন্ত্রীর নামে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এখন মূল প্রশ্ন, সরকারি অনুমোদন পুরোপুরি না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে প্রধানমন্ত্রীর নাম লেখা বোর্ড বাজারের সামনে বসানো হল। পুরসভা এবং ব্যবসায়ীদের বক্তব্যে বিষয়টি নিয়ে তৈরি হয়েছে ভিন্ন ব্যাখ্যা। ফলে বাজারটির নাম শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা নিয়ে সুরাতে জল্পনা অব্যাহত।


