মাঝরাতে পর পর দু’টি সিপিএমের দলীয় কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনায়। তারকেশ্বরের মুক্তারপুর এবং আগরপাড়ার উষুমপুরে দলীয় অফিসে ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
তারকেশ্বরের মুক্তারপুরে সিপিএমের কার্যালয়টি প্রায় চার দশকের পুরনো। অভিযোগ, মঙ্গলবার গভীর রাতে দুষ্কৃতীরা সেখানে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুনে অফিসের ভিতরে থাকা আসবাব, টেলিভিশন এবং দলের বিভিন্ন নথি পুড়ে যায়। দেওয়ালে থাকা প্রয়াত ও প্রবীণ দলীয় কর্মীদের ছবিও রক্ষা পায়নি। আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ ও দমকলকে জানানো হয়। পরে দমকলের একটি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
শুধু পার্টি অফিস নয়, তার কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকা তৃণমূলের এক নেতার একটি গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সিপিএমের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, পরিকল্পনা করেই তাদের কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনার পিছনে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে বলেই অভিযোগ তাদের।
একই রাতে প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটে উত্তর ২৪ পরগনার আগরপাড়ার উষুমপুরে। সেখানে দীর্ঘদিনের পুরনো ‘প্রমোদ দাশগুপ্ত স্মৃতি ভবন’-এ হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। সিপিএমের দাবি, রাতের অন্ধকারে এলাকার আলো নিভিয়ে একদল দুষ্কৃতী অফিসে ঢুকে তাণ্ডব চালায়। ভাঙচুর করা হয় দলীয় কার্যালয়ের বিভিন্ন অংশ।
সকালে খবর ছড়িয়ে পড়তেই সিপিএমের কর্মী-সমর্থকেরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘোলা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিশ আধিকারিকেরা কার্যালয় ঘুরে দেখার পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। পরে সিপিএমের তরফে থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। দোষীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে দল।
দুই ঘটনাতেই সিপিএমের অভিযোগের নিশানায় বিজেপি। যদিও সেই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করেছে বিজেপি। তারকেশ্বরের স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলের কেউ যুক্ত নয়। বরং রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই তৃণমূলের লোকজন এমন কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে পাল্টা অভিযোগ তাদের।


