মহারাষ্ট্রের নাসিকে ২০২৭ সালের সিংহস্থ কুম্ভমেলাকে সামনে রেখে রাস্তা চওড়া করার নামে আবারও হাজার হাজার গাছ কাটার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালের কুম্ভমেলার সময়ও নাসিক মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন প্রায় আড়াই হাজার গাছ কাটার চেষ্টা করেছিল। তবে বোম্বে হাইকোর্টের কড়া হস্তক্ষেপে সেবার প্রকৃতির এই বড় ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছিল। ঠিক বারো বছর পর আবারো একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটায় তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় পরিবেশবিদরা। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁরা জাতীয় গ্রিন ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হলে আদালত আপাতত নাসিকে সমস্ত রকম গাছ কাটার ওপর সম্পূর্ণ স্থগিতাদেশ জারি করেছে।
বিতর্কের মূল কেন্দ্রে রয়েছে গোদাবরী নদীর তীরের ঐতিহাসিক তপোধন এলাকা। পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান রামচন্দ্র তাঁর নির্বাসনের কিছু সময় এই তপোধনেই কাটিয়েছিলেন। প্রতি কুম্ভমেলায় এখানে সাধুদের থাকার জন্য সাময়িক শিবির তৈরি হলেও এবার প্রশাসনের পরিকল্পনা ছিল ভিন্ন। অস্থায়ী শিবিরের বদলে তারা সেখানে একটি স্থায়ী বাণিজ্যিক হাব গড়ে তোলার জন্য প্রায় এক হাজার আটশোটি প্রাচীন গাছ কেটে ফেলার নোটিশ জারি করে। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রাজনৈতিক নেতা ও প্রোমোটারদের বড়সড় আঁতাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি এই পরিবেশ বিধ্বংসী নীতির বিরুদ্ধে খোদ সরকারি জোটের শরিক দলগুলিও প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের নানাভাবে কটাক্ষ করা হলেও পিছু হটতে নারাজ পরিবেশকর্মীরা। জুনের শুরুতে তপোধন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, শতবর্ষী প্রাচীন গাছগুলোর গায়ে কর্পোরেশনের দেওয়া কাটার চিহ্ন স্পষ্ট। ক্ষুব্ধ নাগরিক ও তরুণ আন্দোলনকারীরা গাছ বাঁচাতে সেগুলির গায়ে ভগবান রামের নাম লিখে অভিনব উপায়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। পরিবেশবিদদের স্পষ্ট অভিযোগ, উন্নয়ন এবং সংস্কৃতির দোহাই দিয়ে আসলে শতবর্ষী প্রাচীন হেরিটেজ গাছগুলো কেটে টাকা আত্মসাতের পথ খোঁজা হচ্ছে। আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে আপাতত রক্ষা পেলেও প্রশাসনের এই একগুঁয়ে নীতি নাসিকে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।


