কলকাতার উপকণ্ঠে স্মার্ট সিটি নিউটাউনের ইকোপার্কের ৬ নম্বর গেট পেরিয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ঘুনি বস্তি। ঝাঁ চকচকে শহরের মাঝেই এই বস্তিতে বাস করতেন কয়েকশো গরিব মানুষ। গত ১৭ ডিসেম্বর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সেই বস্তির প্রায় ৩০০টি অস্থায়ী ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এক মাস কেটে গেলেও আজও সেই পোড়া চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে রয়েছে এলাকায়।
এক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, বিস্তীর্ণ জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে পোড়া কাঠ, টিন আর ছাই। সেই ধ্বংসস্তূপের মাঝেই কয়েকজন কিশোর খেলাধুলা করছে। সংবাদমাধ্যমটি আরও দাবি করে তাদের মধ্যে একজন নবম শ্রেণির ছাত্র আরিফ মহম্মদ। চোখে জল নিয়ে সে জানায়, “এখানেই আমাদের বাড়ি ছিল। আগুনে আমার বইখাতা, বোনের খেলনা সব পুড়ে গেছে।” আরিফের বাবা ময়লার ভ্যান চালান। বহু বছর ধরেই পরিবার নিয়ে তারা এই বস্তিতে থাকতেন। অগ্নিকাণ্ডের দিন প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই কিছুই সঙ্গে নিতে পারেননি। এই এলাকার বাসিন্দাদের বেশিরভাগই দিন আনা দিন খাওয়া মানুষ। কেউ কাগজ কুড়ান, কেউ সুইপারের কাজ করেন, কেউ ভ্যান চালান বা বাড়ির পরিচারিকার কাজ করেন।
আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই ঘটনার পর রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু রাজনৈতিক দল ও সংবাদমাধ্যম এই বস্তিকে ‘মিনি বাংলাদেশ’ বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে। বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অনিয়ম ঢাকতেই এই আগুন লাগানো হয়েছে। এই অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের বক্তব্য, রাজনৈতিক স্বার্থে গরিব মানুষের দুঃখকে ব্যবহার করা অমানবিক।শীতের রাতে মাথার ছাদ হারিয়ে আজও অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন কয়েকশো মানুষ। তাঁদের একটাই দাবি রাজনীতি নয়, দ্রুত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক।


