পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশিত নতুন ভর্তি তালিকা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সংখ্যালঘু মহলের অভিযোগ, ওবিসি সংরক্ষণের নতুন তালিকা কার্যকর হওয়ার পর থেকেই মুসলিম শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিক ভাবে বঞ্চিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রশাসনিক সমীক্ষার পর দেখা যায়, ওবিসি-এ বিভাগের অনেক সাব-কাস্টকে সরিয়ে ওবিসি-বি তে পাঠানো হয়েছে, যেগুলির অধিকাংশই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সংরক্ষিত আসনে মুসলিম প্রার্থীদের উপস্থিতি প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে।
সম্প্রতি বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা গেছে ইতিহাস, দর্শন, গণিত, ভূগোল, জার্নালিজম ও পদার্থবিদ্যার মতো বিভাগে ওবিসি-এ কোটায় মুসলিম শিক্ষার্থীদের নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ইতিহাস বিভাগে ১৪টি আসনের মধ্যে মাত্র এক সংখ্যালঘু ছাত্রী সুযোগ পেয়েছেন। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই চিত্র, পিএইচডিতে বাংলা বিষয়ে ১৭টি ওবিসি-এ আসনের মধ্যে মাত্র ৫ জন সংখ্যালঘু শিক্ষার্থী, আর কমার্স বিভাগে একজনও নেই। অন্যদিকে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন, অর্থনীতি ও প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগেও মুসলিম শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির অভিযোগ, সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার পরও অনেক যোগ্য মুসলিম প্রার্থী বাদ পড়ছেন। বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকাও একই ভাবে আশঙ্কাজনক। বাংলায় ১৫টি ওবিসি-এ আসনের মধ্যে মাত্র ৬ জন সংখ্যালঘু, ইংরেজিতে ৩৭টি আসনের মধ্যে ১৩ জন। অনেক বিভাগেই মুসলিম শিক্ষার্থীর সংখ্যা শূন্য।
ভর্তি প্রক্রিয়ার মতো নিয়োগেও একই অবস্থা। কলেজ সার্ভিস কমিশনের অধ্যক্ষ নিয়োগের ৮৭টি পদের একটিতেও মুসলিম প্রার্থী নেই। পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস গ্রুপ-সি ফলাফলেও সংখ্যালঘুদের উপস্থিতি নগণ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরনো ওবিসি-এ তালিকা কার্যকর না থাকলে সংখ্যালঘু সমাজ আরও পিছিয়ে পড়বে। প্রতীচী ইনস্টিটিউটের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর সাবির আহমেদ এই বিষয়ে মন্তব্য করেন, “নতুন ওবিসি শ্রেণিবিন্যাসে মুসলমানরা কার্যত শিক্ষা ও চাকরির দৌড়ে অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছেন। সরকারের এই সিদ্ধান্ত সামাজিক ন্যায়ের ওপর বড় আঘাত।” সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির দাবি, অবিলম্বে পুরনো ওবিসি-এ তালিকা ফিরিয়ে আনা হোক, ভর্তি ও নিয়োগে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হোক, না হলে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামবে তারা। এই বিতর্ক এখন রাজ্যের শিক্ষা ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।


