ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কট্টর অভিবাসন নীতির জেরে বড়সড় ধাক্কা লাগল ফুটবল বিশ্বকাপে। আফ্রিকার সেরা রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতানকে আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতিই দেওয়া হলো না। মায়ামি বিমানবন্দর থেকেই সোজা ইস্তাম্বুলগামী বিমানে চাপিয়ে তাঁকে ডিপোর্ট বা ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। ওমরের অপরাধ কেবল এটাই যে, তিনি সোমালিয়ার নাগরিক। আসলে ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে সোমালিয়াসহ একাধিক দেশের নাগরিকদের জন্য আমেরিকার দরজা কার্যত বন্ধ করে রেখেছে।
২০১৮ সাল থেকে ফিফার রেফারি হিসাবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ওমর। আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত ৫২ জন মূল রেফারির তালিকায় তিনি ছিলেন অন্যতম। সোমালিয়ার পাসপোর্ট নিয়ে মার্কিন মুলুকে প্রবেশে সমস্যা হতে পারে জেনে নাইরোবির সোমালিয়া দূতাবাস আগে থেকেই ওমরের জন্য বিশেষ কূটনৈতিক পাসপোর্টের ব্যবস্থা করেছিল। মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকলে এই নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল হওয়ার কথা।
কিন্তু সমস্ত বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও সোমবার মায়ামি বিমানবন্দরে নামার পর ট্রাম্পের দেশের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বিভাগ কড়া স্ক্রুটিনির পর ওমরকে দেশে ঢোকার অনুমতি দেয়নি। ‘নিরাপত্তা সংক্রান্ত কড়া যাচাইকরণ’-এর অজুহাত দিয়ে তাঁকে এয়ারপোর্ট থেকেই ফেরত পাঠানো হয়। এই নজিরবিহীন ঘটনায় সোমালিয়ার ফুটবল ফেডারেশন ক্ষোভ উগরে দিয়ে ফিফার দ্বারস্থ হয়েছে। তবে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা সরাসরি দায় এড়িয়ে জানিয়েছে, কোনও দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ আয়োজক দেশের। এখানে ফিফার কিছু করার নেই। এর ফলে ওমরের বিশ্বকাপ পরিচালনার স্বপ্ন ভেস্তে গেল। শুধু এই রেফারিই নন, ইরাক ও ইরানের ফুটবলার ও অফিশিয়ালদের ভিসা নিয়েও ট্রাম্পের দেশে একের পর এক জটিলতা তৈরি হওয়ায় এই ফুটবল বিশ্বকাপের স্পিরিট নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।


