দীর্ঘদিন ধরে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিসেবে পরিচিত আরএসএসকে ঘিরে নানা বিতর্ক থাকলেও এবার সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা দিলেন সংগঠনের শীর্ষ নেতা ইন্দ্রেশ কুমার। দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, হিন্দু ও মুসলিমদের মধ্যে বিভেদ তৈরির চেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল হবে না। ধর্মের নামে সমাজকে ভাগ করতে চাওয়া রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে একদিন জনগণই জবাব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইন্দ্রেশ কুমারের এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ, আরএসএসের কোনও শীর্ষ নেতার মুখে এভাবে হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের কথা খুব একটা শোনা যায় না। তিনি বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যুবসমাজ এখন শিক্ষা, উন্নয়ন এবং দেশের অগ্রগতিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
আরএসএস নেতা জানান, দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে শিক্ষার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর কথায়, তরুণদের মধ্যে এমন একটি ভাবনা তৈরি হচ্ছে যে শিক্ষা এবং উন্নয়নকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে গেলে আরও শক্তিশালী ভারত গড়ে তোলা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে সম্প্রীতির বার্তা দিতে গিয়ে ইন্দ্রেশ কুমার বলেন, সমাজে ঘৃণা নয়, ভালোবাসার পরিবেশ গড়ে তোলা প্রয়োজন। বহু বছর ধরে কিছু মানুষ বিশ্বাস করতেন যে হিন্দু ও মুসলিম একসঙ্গে থাকতে পারে না। কিন্তু সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করাই এখন সময়ের দাবি। দুই সম্প্রদায়ের মানুষকে একসঙ্গে বসবাস ও দেশের উন্নয়নের কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
একই সঙ্গে ধর্মের ভিত্তিতে দেশকে ভাগ করার রাজনীতিরও সমালোচনা করেন আরএসএস নেতা। তাঁর দাবি, যে রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠী মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে চায়, তাদের প্রতি মানুষের সমর্থন একসময় কমে যাবে। জনগণই তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে।
উল্লেখ্য, ইন্দ্রেশ কুমার আরএসএসের জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এবং মুসলিম রাষ্ট্রীয় মঞ্চের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। ২০০২ সালে গঠিত এই সংগঠন মুসলিম সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং জাতীয় ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করে।
এদিকে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতও বর্তমানে বিহার সফরে রয়েছেন। রবিবার থেকে শুরু হওয়া তাঁর পাঁচ দিনের এই সফরে মুঙ্গেরে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নিচ্ছেন তিনি। সেখানে বিহার ও ঝাড়খণ্ডের প্রায় ৭০০ স্বয়ংসেবক সাংগঠনিক ও নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।


