বাংলার রাজনীতিতে বহুদিন ধরেই ‘অপারেশন পদ্ম’ নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এতদিন মূলত বিধানসভা বা পুরসভাকে ঘিরেই এই জল্পনা সীমাবদ্ধ ছিল। তবে এবার সেই আলোচনা পৌঁছে গিয়েছে জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক সাংসদ বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নাকি ইতিমধ্যেই দলবদলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন বলেও খবর ছড়িয়েছে।
বর্তমানে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের মোট সাংসদ সংখ্যা ২৯। রাজনৈতিক সূত্রের দাবি, এই সাংসদদের মধ্যে এক বড় অংশ বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বা এনডিএ-কে সমর্থন করার বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছেন। সংখ্যাটা কত হতে পারে, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত তথ্য সামনে না এলেও রাজনৈতিক অন্দরে ১৮ থেকে ২০ জন সাংসদের নাম ঘুরছে বলে জানা যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে দলত্যাগ বিরোধী আইন। সংসদে কোনও দলের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য একসঙ্গে দল ছাড়লে তাঁদের বিরুদ্ধে সেই আইন কার্যকর হয় না। সেই হিসাব মাথায় রেখেই নাকি গোটা পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। তৃণমূলের ২৯ জন সাংসদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১৯ থেকে ২০ জন। ফলে প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আগামী বর্ষাকালীন অধিবেশনের সময় এই বিষয়ে বড় কোনও পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্ব এখন থেকেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা শুরু করেছে। কারণ, যাঁদের নাম উঠে আসছে তাঁদের মধ্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সাংসদও রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিজেপির এই আগ্রহের পিছনে সংসদের অঙ্কও রয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রে সরকার চালাতে বিজেপিকে শরিক দলের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। যদি তৃণমূলের একাধিক সাংসদ বিজেপি শিবিরে যোগ দেন, তাহলে লোকসভায় তাদের শক্তি আরও বাড়বে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ করানোও সহজ হয়ে যাবে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত।
অন্যদিকে, তৃণমূলের অন্দরেও অসন্তোষের কথা সামনে আসছে। দলের কয়েকজন সাংসদের অভিযোগ, সংগঠনের ভিতরে কিছু সিদ্ধান্ত এবং নির্বাচনী কৌশল নিয়ে তাঁদের আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে আইপ্যাকের ভূমিকা এবং দলের কিছু নেতার আচরণ নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে বলেই খবর।
শুধু লোকসভা নয়, ভবিষ্যতে রাজ্যসভাতেও একই ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলের একাধিক রাজ্যসভার সাংসদের সঙ্গেও বিজেপির যোগাযোগ রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
তবে এই সমস্ত তথ্য এখনও রাজনৈতিক সূত্র নির্ভর। কোনও পক্ষই প্রকাশ্যে এ বিষয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করেনি। ফলে আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতির।


