পশ্চিম বর্ধমান জেলার শহরাঞ্চলে কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রক এবং রাজ্যের পুর দপ্তরের যৌথ উদ্যোগে একটি বিশেষ শৌচাগার নির্মাণ প্রকল্প চালু হতে চলেছে। এই প্রকল্পের আওতায় শহরাঞ্চলে বসবাসকারী বিপিএল তালিকাভুক্ত এমন পরিবার, যাঁদের নিজস্ব জমি রয়েছে কিন্তু বাড়িতে শৌচাগার নেই, তাঁরা সম্পূর্ণ সরকারি খরচে শৌচাগার নির্মাণের সুবিধা পাবেন। তবে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক।
রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, প্রকল্পের জন্য আবেদনকারীদের বিজেপির মণ্ডল সভাপতিদের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে হবে। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “মণ্ডল সভাপতিদের মাধ্যমে বাসিন্দারা আবেদন করবেন। তালিকা প্রস্তুত হওয়ার পরে আবেদনকারীদের জমির বৈধতা যাচাই করে প্রকল্প রূপায়ণ করা হবে।”
একটি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে আবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ নিয়ে আপত্তি তুলেছে সিপিএম। দলের রাজ্য কমিটির সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায় এই পদক্ষেপকে ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “এটি অত্যন্ত অগণতান্ত্রিক নির্দেশ। এরাও সরকারকে দলীয়তন্ত্রে পরিণত করতে চাইছে।”
যদিও বিরোধীদের সমালোচনা উড়িয়ে দিয়েছেন পুরমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রকল্পের সুবিধা যাতে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছায়, সেই লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে, শুধু ব্যক্তিগত শৌচাগার নয়, জেলার বিভিন্ন বাজার এলাকা এবং জনবহুল বস্তিতেও গণ-শৌচাগার নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট জমির স্বত্ব সরকারকে হস্তান্তর করা হলে সেখানে আধুনিক গণ-শৌচাগার তৈরি করা হবে এবং রক্ষণাবেক্ষণের সমস্ত খরচও সরকার বহন করবে।
এ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রেও উন্নত পরিকাঠামোযুক্ত আধুনিক শৌচাগার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। ফলে একদিকে যেমন নাগরিক পরিকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ সামনে এসেছে, অন্যদিকে আবেদন প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিতর্কও দানা বাঁধছে।


