
ডোমকল, মুর্শিদাবাদ, ২৬ মার্চ, ২০২৫
মুর্শিদাবাদের ডোমকল থানায় ব্যাংকের পাসবই হারানোর অভিযোগ করতে গিয়ে আইআইটি খড়গপুরের পিএইচডি গবেষক ইমন কল্যাণের ওপর পুলিশ কর্মকর্তাদের হিংস্র আচরণ ও শারীরিক নির্যাতনের মর্মস্পর্শী অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন ডোমকল থানার এসআই উজ্জ্বল বিশ্বাস, সুভজ কুমার ও নামজানা দুই পুলিশকর্মী। ঘটনাটি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করতে গেলে ঘটে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী।

ইমন কল্যাণ (পিতা: হজরত আলি, রমনা এতবার নগর) জানান, গতকাল দুপুর ১:৩০টার দিকে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার (অ্যাকাউন্ট নং-৩৩৯৮০৮১৮২২১) হারানো পাসবুকের বিষয়ে জিডি দায়ের করতে তিনি ডোমকল থানায় যান। প্রাথমিকভাবে জিডি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান কর্তব্যরত কর্মকর্তা। ইমনের অভিযোগ “আধার কার্ডের জেরক্স ও স্বাক্ষরিত কাগজপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও এসআই উজ্জ্বল বিশ্বাস জোর করে ব্যাঙ্ক থেকে স্ট্যাম্প লাগিয়ে আনার দাবি তুলতে থাকেন। কথবকথনের সময় তিনি রাগান্বিত হয়ে ওঠেন এবং আমাকে করিডরের এক নির্জন কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে দরজা বন্ধ করে আমার ব্যাগ ও চশমা জবর দখল করেন। এরপর বেতের লাঠি, ঘুষি ও লাথি দিয়ে নির্বিচারে মারধর চালান। অন্য অফিসাররাও এই নির্যাতনে যোগ দেন।”
ইমন দাবি করেন, থানার অভ্যন্তরে সুভজ কুমার নামের এক কর্মকর্তা উস্কানিমূলক মন্তব্য করতে থাকেন এবং হাসতে হাসতে নির্যাতন দেখে মোজ। ইমনের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, যা পরে ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হয়। “আমি যখন প্রতিবাদ করি, তারা আমাকে ‘লকআপে’ বন্দী করার হুমকি দেয় এবং অশালীন ভাষায় পরিবারকে গালিগালাজ করে ও মারধরের হুমকিও দেয়,” অভিযোগ কল্যানের।
এর কিছুক্ষণ পরেই I.C. পার্থসারথি মজুমদার তার ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন এবং উনি কল্যাণকে ছাড়িয়ে নিয়ে তার G.D.E. নথিভুক্ত করেন।

ঘটনার পর ইমনকে ডোমকল মহকুমা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা রিপোর্টে (প্রেসক্রিপশন নং-২৬৭০৭) তাঁর ডান বাহু, বাম উরু, বুক, কাঁধ ও পিঠে একাধিক আঘাতের নিদর্শন শনাক্ত করা হয়েছে। ইমন পরিবার এখন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা ৩২৩ (শারীরিক আঘাত), ৩৪১ (অবৈধ আটক) ও ৫০৪ (মর্যাদাহানিকর আচরণ) সহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অভিযোগের মূল বিষয়বস্তুগুলি:
১. পুলিশি আচরণবিধি (কোড অফ কন্ডাক্ট) লঙ্ঘন।
২. সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার ও হুমকি।
৩. অশালীন ভাষায় গালাগালি ও মানসিক হয়রানি।
৪. শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘন।

ইমনের পরিবার জানিয়েছেন, “এই ঘটনা শুধু একটি ব্যক্তিগত আক্রমণ নয়, বরং নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের প্রতীক। আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও পুলিশের রুলবুকের আইন না মেনে তার বিরুদ্ধাচরণ অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।” এদিকে, ডোমকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পার্থসারথি মজুমদার শেষ পর্যন্ত ইমনের জিডি গ্রহণ করলেও নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
সম্পাদকীয় নোট:
এই প্রতিবেদনটি অভিযোগকারীর বক্তব্য, মেডিক্যাল ডকুমেন্টেশন এবং স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত। আইনি প্রক্রিয়ার স্বার্থে অভিযুক্ত পক্ষের প্রতিক্রিয়া প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার গভীর তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আবেদন রইল।