পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় আবার এক আলু চাষির মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে, যা এলাকায় গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গত দুই সপ্তাহে এই জেলায় মোট তিনজন চাষি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। একই দিনে উত্তরবঙ্গের ধূপগুড়িতেও আরেক কৃষকের মৃত্যু ঘটেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে।
কেশপুর ব্লকের আনন্দপুর থানার রেনুয়াড় গ্রামে ৩৭ বছর বয়সী অভিজিৎ নন্দী নামে এক পরিশ্রমী যুবক চাষির এই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে। তিনি আলু চাষ করেই সংসার চালাতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝড় ও বৃষ্টির কারণে তাঁর চাষের জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়। অনেক কষ্টে জমি থেকে কিছু আলু তোলার পরও সেগুলি বিক্রি করে লাভের আশা প্রায় ছিল না বললেই চলে। বাজারে আলুর দাম অত্যন্ত কম থাকায় তাঁর আর্থিক সমস্যা আরও বাড়ে।
এর পাশাপাশি চাষের জন্য নেওয়া ঋণ এবং মেয়ের বিয়ের খরচ মিলিয়ে তাঁর ওপর বড় অঙ্কের দেনা চাপেছিল। পরিবারের দাবি, কয়েকদিন ধরে তিনি ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছিলেন না এবং চিন্তায় ভেঙে পড়েছিলেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তিনি মাঠে গিয়ে আর ফেরেননি। পরে পরিবারের লোকজন খোঁজ করে দেখেন, তিনি জমির মধ্যেই অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছেন। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্ত্রী ও ছোট সন্তান এখন অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিবেশীরাও জানিয়েছেন, আলুর দাম না পাওয়া এবং ঋণের চাপে অনেক চাষিই সমস্যায় রয়েছেন। মাঠে এখনও অনেক জায়গায় আলু পড়ে রয়েছে, যা বিক্রি না হওয়ায় চাষিদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়ছে। পুরো ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও হতাশার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।


