দক্ষিণ হাওড়ার মানুষের কাছে স্বাস্থ্য পরিষেবার দুরবস্থার এক স্পষ্ট ছবি তুলে ধরছে বি-গার্ডেনের লক্ষ্মীনারায়ণতলায় থাকা দক্ষিণ হাওড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতাল। একসময় সাধারণ মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসার আশ্রয়স্থল হিসেবে তৈরি এই হাসপাতাল এখন কার্যত পরিষেবা সংকটে ভুগছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকার বাসিন্দাদের কথায়, হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক বা নার্সদের সহজে পাওয়া যায় না। জরুরি পরিস্থিতিতে চিকিৎসা পাওয়া তো দূরের কথা, প্রাথমিক পরিষেবাও অনেক সময় মেলে না। ফলে অসুস্থ মানুষদের দ্রুত বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধ্য হন পরিবারের সদস্যরা, যা তাঁদের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
২০১১ সালের পর থেকে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে বলে মনে করেন অনেকেই। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালের পরিকাঠামো যেমন খারাপ হয়েছে, তেমনই কমেছে পরিষেবার মান। কোথাও ছাদ চুঁইয়ে জল পড়ছে, কোথাও আবার পরিত্যক্ত অবস্থার ছবি। হাসপাতাল চত্বর জুড়ে আগাছা জমে রয়েছে, যা দেখেই বোঝা যায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব রয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে এসে মানুষের সমস্যার কথা শোনেন সিপিএম প্রার্থী ডাঃ অভিজিৎ বন্দোপাধ্যায়। স্থানীয়রা তাঁকে ঘিরে হাসপাতালের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, হাসপাতালের জমি বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এ নিয়ে সরকারি তরফে স্পষ্ট কিছু জানা যায়নি, তবুও এই আশঙ্কা ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে এলাকায়। উন্নয়নের দাবিতে একাধিকবার স্থানীয় বিধায়কের দ্বারস্থ হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ হয়নি বলেও অভিযোগ ওঠে।
দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভা এলাকায় কয়েক লক্ষ মানুষের বসবাস। কিন্তু সেখানে কার্যকর কোনও সরকারি হাসপাতাল না থাকায় চিকিৎসার জন্য অনেককেই কলকাতা বা হাওড়া জেলা হাসপাতালে যেতে হয়। সেখানেও বেডের অভাব থাকায় শেষ পর্যন্ত বেসরকারি হাসপাতালের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
এছাড়া এলাকায় নিকাশি সমস্যা, সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমে যাওয়া এবং বেআইনি নির্মাণ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, প্রশাসনের উদাসীনতার কারণেই এই সমস্যাগুলি দীর্ঘদিন ধরে রয়ে গেছে। এদিকে দ্রুত হাসপাতালের সংস্কার ও উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা চালুর দাবিতে সরব হয়েছেন দক্ষিণ হাওড়ার মানুষ। স্থানীয়দের আশ্বাস দিয়ে ডাঃ বন্দোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই সমস্যাগুলি সমাধানে তিনি পাশে থাকার চেষ্টা করবেন।


