পুলওয়ামা হামলায় ভাইকে হারানোর পর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস পেয়েছিলেন ঝুম্পা বিশ্বাস। তাঁকে সরকারি চাকরি দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও চাকরি পাননি তিনি। একাধিকবার আবেদন ও প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার পরেও সমস্যার সমাধান হয়নি। নতুন সরকারের কাছে এবার চাকরির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন ঝুম্পা।২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় প্রাণ হারান বহু জওয়ান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন নদিয়ার পলাশীপাড়া থানার হাঁসপুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা সুদীপ বিশ্বাস। ২০১৪ সালে ভারতীয় সেনায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি। দেশের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকার সময়ই মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে প্রাণ দিতে হয় তাঁকে।পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থল শ্রীনগরে ফিরছিলেন সুদীপ। জম্মুতে পৌঁছনোর পর তাঁর এক সহকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। সহকর্মীর দেখাশোনার জন্য সেখানে কিছু সময় থেকে যান তিনি। পরে ১৪ ফেব্রুয়ারি সেনার কনভয়ের সঙ্গে শ্রীনগরের উদ্দেশে রওনা দেন সুদীপ। কিছুটা পথ যাওয়ার পর কনভয় লক্ষ্য করে হামলা চালায় জঙ্গিরা। সেই ঘটনায় সুদীপ-সহ বহু সেনা জওয়ান নিহত হন।সুদীপের মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছনোর পর শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে প্রশাসনের আধিকারিক এবং তৎকালীন রাজ্য সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী সেখানে যান। সেই সময় সুদীপের বোন ঝুম্পাকে সরকারি চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর পরিবারের দাবি। কিন্তু এত বছর পরেও সেই আশ্বাস কার্যকর হয়নি।ঝুম্পার অভিযোগ, চাকরির জন্য তিনি একবার-দু’বার নয়, গত কয়েক বছরে প্রায় ১০ থেকে ১২ বার আবেদন করেছেন। প্রয়োজনীয় নথিও বিভিন্ন সময়ে জমা দিয়েছেন। প্রশাসনের একাধিক দফতরে যোগাযোগ করেও এখনও কোনও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।ঝুম্পা বলেন, ভাই সেনায় যোগ দেওয়ার কয়েক বছরের মধ্যেই দেশের জন্য প্রাণ দেন। তাঁর মৃত্যুর পর চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা পূরণ হয়নি। এখন নতুন সরকারের কাছে তাঁর একটাই আশা—এবার যেন চাকরির ব্যবস্থা করা হয়।বিজেপি বিধায়ক সুব্রত কবিরাজও বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ঝুম্পার চাকরির সমস্যা মেটাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার চেষ্টা করা হবে। ছয় বছর ধরে অপেক্ষার পর এবার প্রশাসনের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে শহিদ পরিবারের সদস্য ঝুম্পা।
Popular Categories


