পশ্চিমবঙ্গে ১২৫ দিনের কাজের নতুন প্রকল্প শুরু হওয়ার পর দুই মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় হিসাব বলছে, এখনও রাজ্যের বিপুল সংখ্যক গ্রাম পঞ্চায়েতে এই প্রকল্পের জন্য কোনও অর্থ খরচ করা যায়নি। কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ৩ হাজার ৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ২ হাজার ৮৪৫টিতে এখনও প্রকল্পের টাকা খরচের হিসাব নেই। অর্থাৎ, প্রায় ৮৫ শতাংশ পঞ্চায়েত এই ক্ষেত্রে শূন্যে রয়েছে।গত ১ জুলাই দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও ১২৫ দিনের কাজের প্রকল্প চালু হয়। পুরনো ১০০ দিনের কাজের পরিবর্তে এই নতুন প্রকল্প শুরু করেছে কেন্দ্র। তবে রাজ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শুরু থেকেই নানা সমস্যা সামনে এসেছে।প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, কোনও কাজ শুরু করে দ্রুত তার টাকা খরচ করে ফেলা সম্ভব নয়। প্রথমে কাজের প্রয়োজন নির্ধারণ, শ্রমিক ও কাজের হিসাব তৈরি, পরে বিল প্রস্তুত এবং টাকা দেওয়ার মতো একাধিক ধাপ রয়েছে। টাকা দেওয়ার পর সেই তথ্য নির্দিষ্ট সরকারি ব্যবস্থায় নথিভুক্ত করতেও সময় লাগে। ফলে পুরো প্রক্রিয়ায় কিছুটা দেরি হওয়া স্বাভাবিক।তবে দেশের সামগ্রিক ছবির সঙ্গে বাংলার পরিসংখ্যানের বড় পার্থক্য নজরে পড়ছে। কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় ২ লক্ষ ৬৯ হাজার ৫২১টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। তার মধ্যে ৬৬ হাজার ৬১টি পঞ্চায়েতে এখনও কোনও খরচ হয়নি। অর্থাৎ জাতীয় স্তরে এমন পঞ্চায়েতের হার প্রায় ২৪.৫১ শতাংশ। সেখানে পশ্চিমবঙ্গে সেই হার ৮৫ শতাংশের বেশি।রাজ্যের তরফে অবশ্য এই পরিস্থিতির পিছনে একাধিক কারণ তুলে ধরা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ১০০ দিনের কাজ বন্ধ থাকার কারণে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নতুন করে সক্রিয় করতে সময় লেগেছে বলে দাবি রাজ্যের। একই সময়ে পঞ্চায়েত স্তরে নেতৃত্বের সমস্যা এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনও কাজের গতি কমিয়েছে।এর পাশাপাশি বর্ষার কারণে বহু এলাকায় কাজ শুরু করা বা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়েছে। পুরনো তালিকা যাচাই করে প্রকৃত উপভোক্তাদের চিহ্নিত করার কাজও সময় নিয়েছে। দীর্ঘদিন কাজ না থাকায় বহু শ্রমিক অন্য রাজ্যে চলে গিয়েছিলেন। তাঁদের অনেকে এখন আবার নিজেদের এলাকায় ফিরছেন।রাজ্যের পঞ্চায়েত প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক অবশ্য পরিস্থিতি দ্রুত বদলাবে বলে আশাবাদী। তাঁর বক্তব্য, পিছিয়ে থাকা ব্লকগুলিকে চিহ্নিত করে আলাদা করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে কাজের গতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুজোর পর প্রকল্পের কাজ আরও দ্রুত এগোবে বলেই আশা রাজ্যের।
Popular Categories


