মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান পুরসভাকে ঘিরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবার প্রকাশ্যে এল। অনাস্থা ভোটের জেরে পুরসভার চেয়ারম্যানের পদ থেকে সরে যেতে হল ইনজামামুল ইসলামকে। তাঁর জায়গায় নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেলেন ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আনোয়ার সাদাত। তিনি বর্তমানে ঋতব্রতপন্থী তৃণমূল শিবিরের সঙ্গে রয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলের খবর।২১টি আসন নিয়ে গঠিত ধুলিয়ান পুরসভায় আগের নির্বাচনে তৃণমূল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল। কংগ্রেস পেয়েছিল সাতটি আসন এবং দু’টি আসনে জয়ী হয়েছিলেন নির্দল প্রার্থীরা। তৃণমূলের পক্ষ থেকে পুরসভার চেয়ারম্যান করা হয়েছিল ইনজামামুল ইসলামকে। তিনি দলের কালীঘাট ঘনিষ্ঠ শিবিরের নেতা হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।তবে বিধানসভা নির্বাচনের পর পুরসভার অন্দরে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। চেয়ারম্যানের সঙ্গে একাধিক কাউন্সিলরের সম্পর্কের অবনতি হয়। গত ৪ আগস্ট তৃণমূলের ১৩ জন কাউন্সিলর তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। সেই ভোট হওয়ার আগেই অবশ্য পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।২৩ আগস্ট ইনজামামুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান খায়রুল ইসলাম-সহ পাঁচ কাউন্সিলর কংগ্রেসে যোগ দেন। তবে তাঁদের দলবদল নিয়ে কংগ্রেসের অন্দরেই আপত্তি ওঠে। রাজ্য নেতৃত্বের অনুমতি না থাকা এবং সামশেরগঞ্জের একটি সংঘর্ষের ঘটনায় তাঁদের নাম জড়ানোর অভিযোগের কথা সামনে আসে। পরে তাঁদের যোগদান নিয়ে দলীয় স্তরে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয় বলে জানা যায়।এই পরিস্থিতিতে সোমবার নতুন চেয়ারম্যান বেছে নিতে পুরসভায় ভোট হয়। মোট ২১ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ১৫ জন উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত কাউন্সিলরদের সমর্থনে আনোয়ার সাদাত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।আনোয়ার আগে নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জিতেছিলেন। পরে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। বর্তমানে তাঁর সঙ্গে আরও ১৩ জন কাউন্সিলর ঋতব্রতপন্থী শিবিরে রয়েছেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি। ভোটের দিন কংগ্রেসে যাওয়া পাঁচ কাউন্সিলরের পাশাপাশি ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সুষমা সরকারও উপস্থিত ছিলেন না।এদিন উপস্থিত ছিলেন সামশেরগঞ্জের ঋতপন্থী তৃণমূল বিধায়ক নুর আলম। তাঁর দাবি, আগের চেয়ারম্যান নিয়মিত পুরসভায় না আসায় নাগরিক পরিষেবার কাজে সমস্যা হচ্ছিল। নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে দ্রুত পুরসভার কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান। চেয়ারম্যান বদলের পর ধুলিয়ান পুরসভায় তৃণমূলের দুই শিবিরের রাজনৈতিক টানাপোড়েন কোন দিকে যায়, এখন সেটাই দেখার।
Popular Categories


