কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী আজ বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লির ইন্দিরা ভবনে বিশেষ সাংবাদিক বৈঠক করেন। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এই বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা দেখা গেছে।
রাহুল জানিয়েছিলেন, শিগগিরই তারা ভোট চুরির বিস্ফোরক প্রমাণ সামনে আনবেন। তিনি এও দাবি করেছেন, সরকার ভোটের ফলাফল মিথ্যা ভাবে সাজিয়ে দিচ্ছে। কর্ণাটকের মহাদেবপুরা বিধানসভা কেন্দ্রে অনিয়ম হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। রাহুল গান্ধী আরও বলেছেন, ২০১৯ সালের মহারাষ্ট্র লোকসভা নির্বাচনের পর এক কোটিরও বেশি নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে, যা বিজেপির জন্য সুবিধাজনক হয়েছে। কিন্তু কংগ্রেস ও তাদের জোটের ভোট অপরিবর্তিত ছিল। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা বা ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছে। শুধু তাই নয়, কর্ণাটকেও ভুয়ো ভোটার থাকার অভিযোগ তুলেছেন রাহুল। বেঙ্গালুরু সেন্ট্রালের একটি আসনে প্রায় দুই লাখ ভুয়ো ভোটারের নাম রয়েছে, যা বিজেপির জয় নিশ্চিত করেছে। তিনি দাবি করেছেন, এমন অনিয়ম শুধু মহারাষ্ট্র বা কর্ণাটকেই নয়, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ এবং গুজরাটেও হয়েছে। বিশেষ করে গুজরাটে বড় মাত্রায় ভোট চুরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। রাহুল গান্ধী বলেন, কর্নাটকের ভোটার তালিকা থেকে অনেকের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। তিনি জায়ান্ট স্ক্রিনে তথ্য-প্রমাণ দেখিয়ে বলেন, ভোট চুরির পিছনে নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতা রয়েছে। তিনি আরও জানান, গণতন্ত্র রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব, কিন্তু বর্তমানে বিরোধী দলের নেতাদেরই গণতন্ত্র বাঁচানোর কাজ করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা তথ্য-প্রমাণসহ ভোট চুরি নিয়ে সবকিছু সামনে তুলে ধরছি। এবার বিচার জনগণের হাতে।’ তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশনের কিছু ভিতরের কর্মীও ভোট চুরি ধরতে তাদের সাহায্য করছেন। এই অভিযোগের পর থেকে রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন কীভাবে এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়া দেয়।
অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগগুলি প্রত্যাখ্যান করেছে। বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া বলেছেন, কংগ্রেস ভোট চুরি নিয়ে প্রমাণহীন মিথ্যে অভিযোগ করছে। নির্বাচন কমিশনও রাহুল গান্ধীর অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং ভোটার তালিকা বা সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশের অনুরোধ মানতে অস্বীকার করেছে।


