২০২৪ সালে আরজিকর-এ মহিলা চিকিৎসকের মর্মান্তিক ধর্ষণ ও খুনে কেঁপে উঠেছিল গোটা দেশ। ২০২৬ সালে এসে এখনো মানুষের মন থেকে এর ভয়াবহতা খোঁজেনি। প্রায়শই এ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। এরই মাঝে পরিকাঠামগত গাফিলতি ও পরিষেবার অবহেলার জন্য আরজিকর-এ ঘটে গেল পরপর দুটি মৃত্যু।
সাম্প্রতিক কালে লিফটে ভয়াবহ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর, কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল-এর ট্রমা কেয়ার বিভাগে আবারও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসার জন্য ভর্তি হওয়ার পর এক রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে।
মৃত ব্যক্তির নাম বিশ্বজিৎ সামন্ত। তাঁর পরিবারের দাবি, ঠিকমতো ব্যবস্থা না থাকায় এই ঘটনা ঘটেছে। জানা গিয়েছে, শ্বাসকষ্ট এবং নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। প্রাথমিক চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থও হয়েছিলেন। কিন্তু পরে শৌচালয়ে যাওয়ার সময় সমস্যার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। পরিবারের অভিযোগ, কাছাকাছি কোনও শৌচালয় ছিল না। হাসপাতালের কর্মীদের জিজ্ঞাসা করলে তাঁকে অন্যত্র নিয়ে যেতে বলা হয়। সেই সময় একটি স্ট্রেচার চাওয়া হলেও তা মেলেনি। অসুস্থ অবস্থায় নিজেই হাঁটতে গিয়ে হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়েন তিনি। এরপরই তাঁর মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের।
এই ঘটনার কয়েক দিন আগেই একই ট্রমা কেয়ার ভবনে আরেকটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় লিফটে আটকে প্রাণ হারান বলে অভিযোগ। সেই ঘটনাতেও পরিকাঠামো ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিশ্বজিতের পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসার আশায় হাসপাতালে এলেও সেখানে এমন অব্যবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। তাঁদের মতে, যথাযথ সুবিধা থাকলে হয়তো এই মৃত্যু এড়ানো সম্ভব ছিল।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রমা কেয়ার বিভাগে শৌচালয় রয়েছে। তবুও কেন রোগীকে অন্যত্র যেতে বলা হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে এবং দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের সুপার স্বীকার করেছেন, আরও শৌচালয়ের প্রয়োজন রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনার পর আবারও হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।


