উত্তরপ্রদেশের মইনপুরী জেলার কুরাওয়ালি গ্রামে ঈদের নামাজকে ঘিরে এক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বহু বছর ধরে ব্যবহৃত একটি ঈদগাহে নামাজ পড়তে জড়ো হয়েছিলেন স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন। কিন্তু সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছান কুরাওয়ালি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (এসএইচও) ললিত ভাটী।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পুলিশ আধিকারিক ঈদের নামাজ বন্ধ করতে বলেন এবং সেখানে জড়ো হওয়া মুসলিমদের সরে যেতে নির্দেশ দেন। তিনি দাবি করেন, এলাকার কিছু বাসিন্দা অভিযোগ জানিয়েছেন যে এই জমায়েতের কারণে অসুবিধা হচ্ছে। তাই নির্দিষ্ট স্থানের ভেতরেই নামাজ পড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই সময় ঈদগাহের তত্ত্বাবধায়ক শাকির হুসেন পুলিশের এই নির্দেশের বিরোধিতা করেন। তিনি জানান, বহু বছর ধরেই ওই জায়গায় শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ হয়ে আসছে এবং কখনও কোনও সমস্যা হয়নি। এই নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয় এবং পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে জানা যায়।
এক পর্যায়ে এসএইচও ললিত ভাটী নিজের সংযম হারিয়ে ফেলেন বলে অভিযোগ। তিনি শাকির হুসেনকে উদ্দেশ করে হুমকির সুরে কথা বলেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য মানুষ দ্রুত এগিয়ে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেন।
এই সময় স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজন বাসিন্দাও সামনে আসেন। তারা পুলিশকে জানান, এই নামাজ নিয়ে তাদের কোনও আপত্তি নেই এবং আগের মতোই তা চালিয়ে যেতে দেওয়া উচিত।
প্রায় ২০ মিনিট ধরে এই উত্তেজনা চলার পর শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। পরে মুসলিমদের ঈদের নামাজ আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়।
এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং উৎসবের সময়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।


